আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে আরও কঠোর, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে ন্যায়সংগত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি
বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল, ন্যায়সংগত এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রপতি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর এবং শিষ্টের পালনে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।’
আরও পড়ুন: ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগ নিয়ে চট্টগ্রামে সিলন টির বিশেষ আয়োজন
রাষ্ট্রপতি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য, হয়রানি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিকের আইনগত অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।
গুজব ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নির্দেশ
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত সাইবার অপরাধের বিস্তার রোধে আইনানুগ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অপতথ্য ও গুজব অনেক ক্ষেত্রে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই এসব অপরাধের উৎস শনাক্ত, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি এড়াতে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা এবং প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষ করে মাদক বিস্তারের সঙ্গে জড়িত সরবরাহকারী, পরিবেশক ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপরাধ দমনের নামে যেন নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি হয়রানি বা বেআইনি আচরণের শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে নারী ও শিশুর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মিথ্যা মামলা বন্ধে নির্দেশ
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনহয়রানি এবং মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশনার মধ্য দিয়ে অপরাধ দমনে কঠোরতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জবাবদিহি ও আইনি সীমারেখা মেনে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ আধুনিকায়নের অগ্রগতি অবহিত আইজিপির
সাক্ষাৎকালে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। বিশেষ করে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল দৃঢ় রাখা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিনি।
আইজিপি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রপতি পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।





