দুই বছরের সাজা, আপিল করেও জামিন পেলেন না বিদিশা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৭ অপরাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফ্ল্যাট বিক্রয়সংক্রান্ত প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন চাইলেও আদালত তার আবেদন নাকচ করেছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে বিদিশার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাকে।

আরও পড়ুন: জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে মামলা

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাহমুদুল কবির বলেন, আদালত বিদিশার আপিল গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির সময় তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি তিনি নারী হওয়ায় মানবিক দিক থেকে জামিন দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি।

আইনজীবী আরও জানান, জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির যোগসূত্রের ক্লু: চিফ প্রসিকিউটর

যে মামলায় সাজা

গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম ফ্ল্যাট বিক্রয়সংক্রান্ত প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ কী

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্য আমদানি ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদন করা হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি অর্থ গ্রহণ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়ার পর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময় পার করা হলেও টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। এমনকি পাওনা টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।