ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি

Shahrier Islam Pallab
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০১ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার আইএসডিবির সঙ্গে চুক্তি সই করেছে সরকার। ছবিঃ সংগৃহীত
ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার আইএসডিবির সঙ্গে চুক্তি সই করেছে সরকার। ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়নে বড় ধরনের অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের সঙ্গে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে।

চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের প্রধান রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধির এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এতে দেশের মোট পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগ নিয়ে চট্টগ্রামে সিলন টির বিশেষ আয়োজন

বাড়বে দেশীয় পরিশোধন সক্ষমতা

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে দেশীয় পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো। বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির বড় একটি অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয়ভাবে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

প্রকল্পের আওতায় বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় শোধনাগারের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় অর্ধেক দেশীয় পরিশোধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে।

২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা

চুক্তির আওতায় নেওয়া প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শোধনাগারের সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বার্তা

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও আলোচনা করেন তারা। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আইএসডিবির সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

জ্বালানি খাতে বড় এই অর্থায়ন চুক্তিকে তাই শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়ন হিসেবে নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকার।