উচ্চশিক্ষিত স্বামী-সন্তানরা কানাডায়, পল্লবীর ফ্ল্যাটে অযত্নে মৃত্যু; গলিত আরেক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার
রাজধানীর পল্লবীতে নিজ ফ্ল্যাটে অযত্ন-অবহেলায় মৃত্যুবরণকারী আরও এক বৃদ্ধা মহিলার গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত ওই মহিলার স্বামী, ছেলে-মেয়ে সবাই উচ্চশিক্ষিত এবং কানাডা প্রবাসী। পল্লবীতে পিতার তিনতলা ফ্ল্যাট বাসায় তিনি একাই থাকতেন বলে জানা গেছে।
নিহত নারীর নাম সেলিনা আফরোজা। উপরের চতুর্থ তলায় থাকতেন তার বড় বোন আয়েশা বেগম। অর্ধগলিত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্লিন ঢাকা গড়তে দিনে দুই শিফটে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগের নির্দেশ
পুলিশ জানায়, পল্লবী থানাধীন সেকশন-১২, ব্লক-সি, রোড নং-১০, বাসা নং-১২-এর তৃতীয় তলায় বসবাসকারী ভিকটিম মৃত সেলিনা আফরোজ (৬৫)-এর সঙ্গে তার বোন আয়েশা রহমান তার ব্যবহৃত ফোন থেকে গত ২৬ মে বিকেল ৩টায় যোগাযোগ করার পর থেকে আর কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে ভিকটিমের বোন আয়েশা রহমান গত ২ জুন রাত ১১টায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানালে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটের দুটি দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভিকটিমকে দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।
আরও পড়ুন: পল্লবীতে বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়
পরবর্তীতে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মৃতদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জানা যায়, মৃত সেলিনা আফরোজের স্বামী এবং এক ছেলে ও দুই মেয়ে কানাডা প্রবাসী। ভিকটিম প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে ওই ফ্ল্যাটে একা বসবাস করতেন।
এদিকে ঘটনার অপমৃত্যু সংক্রান্ত প্রতিবেদনে পল্লবী থানার সুরতহাল প্রদানকারী কর্মকর্তা জানান, ৩ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ডিউটি অফিসারের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, একজন বৃদ্ধা মহিলা মৃত সেলিনা আফরোজ (৫৫), পিতা-মৃত ডা. খলিলুল রহমান, মাতা-আফিয়া রহমান, স্বামী-মুবিনুল হক, বাসা নং-১২, রোড নং-১০, ব্লক-সি, সেকশন-৬, থানা-পল্লবী, ঢাকা ঠিকানার ৩য় তলায় মারা গেছেন।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে তিনি সঙ্গীয় নারী কনস্টেবল সালমা আক্তার ও কনস্টেবল ১১০৮৪ মো. সাদ্দাম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পিকআপযোগে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বর্তমানে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
মৃতের আত্মীয়-স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মৃতের বড় ছেলে ও ছোট দুই মেয়ে কানাডা প্রবাসী। তিনি প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে বাংলাদেশে তার পিতার আবাসস্থলের ৩য় তলায় একাকী বসবাস করে আসছিলেন। একই ভবনের ৪র্থ তলায় তার আপন বড় বোন বসবাস করলেও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি বার্ধক্য ও অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।





