ভারতে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে বক্তব্যে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৩১ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারত পালিয়ে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ক্ষোভ জানায়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে ফ্রি প্রশিক্ষণের সুযোগ

ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, এ ধরনের অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারত সরকারকে অবহিত করা হলেও তা সত্ত্বেও এই জনসম্মুখের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে নিরীহ বেসামরিক নাগরিক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করা পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এমন ঘৃণ্য অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও তা প্রত্যাখ্যান করছে।

আরও পড়ুন: ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম

জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছে যে, দেশ আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও কোনো ক্লায়েন্ট রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া চক্রের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।

বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। কিন্তু বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত সরকার এখনো কোনো জবাব দেয়নি।

বরং যেকোনো অজুহাতে তাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে এবং বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্কের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছে ঢাকা।