বৃষ্টিতে ডুবলো ঢাকা
রাজধানীতে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি, তাপমাত্রা কমল অনেকটা
তীব্র ভ্যাপসা গরমের পর ঢাকায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৪৩ মিলিমিটার মুষলধারার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ঢাকার অনেক সড়ক। অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাশন হতে দেরি হওয়ায় সড়কগুলো প্রায় পানির নিচে ডুবে গেছে। সামান্য এই বৃষ্টিতেই অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে জনজীবনে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। এতে কাজের জন্য বাইরে বের হওয়া রাজধানীবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নিচু এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ডেমরা-যাত্রাবাড়ি, কদমতলী ও শ্যামপুর, সায়েদাবাদ, গোপীবাগ-স্বামীবাগ, ওয়ারী, ফকিরের পুল, নয়াপল্টন, দৈনিক বাংলা মোড়, শান্তিনগর-মালিবাগ, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, গ্রিন রোড, কারওয়ান বাজার, গুলশান, বাড্ডা, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পানি জমে যায়। একইসঙ্গে সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যায়। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও বৃষ্টির কারণে সড়কে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে মারধর, টাকা ও নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ
গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই ভ্যাপসা গরম ছিল রাজধানীতে। জ্যৈষ্ঠের শেষের কড়া রোদ গায়ে জ্বালা ধরাচ্ছিল। তাপমাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল অনেকটা। কিন্তু দুপুরের পর রাজধানীর ঝুম বৃষ্টি সেই তাপ কমিয়েছে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ৪৩ মিলিমিটার। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য নানা স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেরিতে এলেও ইতিমধ্যে দেশের প্রায় সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃষ্টির সময় মোটরসাইকেলগুলো ফ্লাইওভার বা ওভারপাসের নিচে আশ্রয় নেয় এবং এতেও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি, বৃষ্টিতে ভিজে যেতে হয়েছে অনেককেই। কিন্তু মোটরসাইকেল ও রিকশা জটলা পাকিয়ে থাকার কারণে পেছনে গাড়িগুলো আটকে যায়। জলাবদ্ধ রাস্তার কারণে গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলাচল করে। গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা বা ভ্যানে রাস্তা পার হতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: এবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে চুরি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে গুলশান, ফার্মগেট ও মতিঝিলসহ রাজধানীর প্রায় সব প্রধান সড়কে যানজট তৈরি হয়েছে। ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের এক অপারেটর বলেন, হঠাৎ এই যানজটের পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ার কারণে গাড়ি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এ কারণেই যানজট তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এ বায়ুর বেশি সক্রিয় হতে সময় লাগবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা চলবে কয়েক দিন। আজ দেশের চার বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। এদিন বেলা তিনটার পর রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়। অন্তত দুই ঘণ্টা চলে এই বৃষ্টি। বৃষ্টির জন্য অনেক রাস্তায় জলজটের সৃষ্টি হয়। ছুটির দিন হলেও যাঁরা রাস্তায় ছিলেন, তাঁরা পড়েন বিপদে। সকালের ঘাম ঝরানো রোদ দেখে স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই ছাতা নিয়ে বেরোননি। তাঁদের জন্য সমস্যা হয়েছে বেশি।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে রাজধানীতে বৃষ্টির কথা বলা হয়েছিল। তবে এতটা বৃষ্টি হবে, তা বোঝা যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল ইসলাম বলেন, বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা এই সময়ে রাজধানীতে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতে তাপমাত্রা অনেকটাই কমে গেছে। কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে, তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়।
নাজমুল ইসলাম জানান, দুপুরের দিকে যখন প্রচণ্ড রোদ ছিল, তখন রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার বৃষ্টির পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নাজমুল ইসলাম বলেন, অর্থাৎ মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। তিনি বলেন, শনিবার রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। মৌসুমি বায়ু ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তবে একটানা বা বর্ষার বৃষ্টি বলতে যা বোঝায়, তা হতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দেশজুড়ে মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটলেও এখনই যে টানা বৃষ্টি হবে, এমনটা নয়। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ফেনীতে ১০৩ মিলিমিটার। আগামী ৫ দিনে সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।





