নাগরিকদের সরাসরি মুখোমুখি ডিএসসিসি প্রশাসক

'রাজপথ দখল করতে দেওয়া হবে না’, হকার উচ্ছেদে বিশেষ কর্মসূচি আসছে

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫২ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার প্রধান সড়ক থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদে দ্রুত বিশেষ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেছেন, রাজপথ কোনোভাবেই দখল হতে দেওয়া হবে না। তবে শৃঙ্খলা মেনে ব্যবসা করতে আগ্রহীদের জন্য মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেটের আদলে বিকল্প ব্যবস্থা করার সুযোগ রাখা হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কলাবাগান গ্রীন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, রমনা ও শাহবাগ এলাকার ১৫ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: ছুটি শেষে চেনা যানজটে ঢাকা, সকালে সড়কে বাড়তি চাপ

সভায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্ড প্রতিনিধিরা এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে ছিল জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের ঘাটতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা, সড়কবাতির অপ্রতুলতা এবং জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে জটিলতা।

ডিএসসিসি প্রশাসক অভিযোগ ও পরামর্শগুলো শোনেন। এ সময় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা চান এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেন। জলাবদ্ধতাকে ঢাকা দক্ষিণের অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেও এ সমস্যা ছিল। এর সমাধানে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার দাবি

নাগরিক সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। সিটি করপোরেশনের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারী দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কিংবা নাগরিকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে তা সরাসরি জানাতে হবে। এ ধরনের অভিযোগ পেলে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।

তিনি নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে অতীতের অর্থ লুটপাট ও অপব্যবহারের ক্ষতি কাটিয়ে একটি আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগর গড়ে তুলতে সব শ্রেণির মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

নাগরিকদের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি কথা বলে সমস্যা সমাধান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় সভায় উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ডিএসসিসি প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।

সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।