চালু হচ্ছে ‘ই-লোন’ সেবা, ঘরে বসেই মিলবে ব্যাংক ঋণ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ন, ১১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, ১২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: মে মাসের ১০ দিনেই দেশে এলো ১২৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

সোমবার (১১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে।

আরও পড়ুন: ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি’র ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন নিতে পারবেন। এ ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। ই-ঋণের সুদের হার ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করা হলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ।

ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই সুবিধা পাবেন না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ই-লোনের ক্ষেত্রে সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল বা আগাম ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত সব তথ্য গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ই-লোন কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরই এ সেবা চালু করতে হবে।