গোপালগঞ্জে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মুহতামিম গ্রেপ্তার

Sanchoy Biswas
নেওয়াজ আহমেদ পরশ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৩ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

​গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ছয় বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে গত তিন মাস ধরে উপুর্যপরি ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​আজ শনিবার (২৭ জুন) কাশিয়ানী থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে।

আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব সন্ত্রাস করেছে এনসিপির লোকজন

​গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকের নাম মাওলানা মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে জিন্দার। তিনি কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। মুস্তাফিজুর রহমান উপজেলার সাফলীডাঙ্গা রহিমদিয়া শামসুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার ছাত্রী। বিবাদী মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান গত প্রায় তিন মাস ধরে ক্লাস মধ্যবর্তী টিফিনের সময়ে বিস্কুট ও চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যেতেন। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক শিশুটির ওপর দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালিয়ে আসছিলেন।

আরও পড়ুন: শুল্ক ফাঁকি দিতে আস্ত গাড়ি কেটে আনা হয় কয়েক টুকরোয়

​সর্বশেষ গত ২৫ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষক শিশুটিকে আবারও নিজের কার্যালয়ে নিয়ে একইভাবে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তিনি। পরবর্তীতে শিশুটি শারীরিকভাবে তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরো ঘটনাটি পরিবারের কাছে প্রকাশ করে।

​এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে আজ শনিবার কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২৫)-এর ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-২৪।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহফুজুর রহমান দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা'কে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আজই তাঁকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

​এদিকে এলাকার একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের এমন পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।