জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর

Sanchoy Biswas
বশির আহমেদ কাজল, গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৫ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ফলে বাজেটে ঘাটতি থাকছে ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ঘাটতি রয়েছে ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: রায়পুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যা: অভিযুক্ত অন্তরের মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি স্বজনদের

শনিবার (২৭ জুন) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশনে বাজেট দুটি উপস্থাপন করা হয়। পরে সিনেট সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবিত ও সংশোধিত বাজেট অনুমোদিত হয়।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও সিনেট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: উপমহাদেশের কিংবদন্তি চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের ইন্তেকাল

তিনি জানান, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কর্মসূচির আওতায় ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউটের (এমএলএলআই) মাধ্যমে মান্দারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, ইতালীয়, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করা, সিলেবাস সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

গ্রিন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রাও ঘোষণা করা হয়।

সিনেট অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। অধিবেশনে মোট ৭০ জন সিনেট সদস্য অংশ নেন।