প্রতি শুক্রবার চলবে অভিযান
হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণ শুরু
ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমানো এবং এলাকার পরিবেশ রক্ষায় তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসানের উদ্যোগে এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি শুক্রবার হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা শ্রমিকদের মাধ্যমে অপসারণ করা হচ্ছে। সড়কের পাশে পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ডের আশপাশের এলাকাও পরিষ্কার করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের ময়লার স্তূপ ও দুর্গন্ধ অনেকটা কমে এসেছে। স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
আরও পড়ুন: হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় ‘দিগন্ত মেগা শপ’, গ্রামীণ জনপদে শহরের ছোঁয়া
স্থানীয়রা জানান, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সাভারের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সব সময়ই যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চাপ থাকে। এর মধ্যে মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বাড়ছিল। বৃষ্টির সময় ময়লা-আবর্জনা পচে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। এতে পথচারীদের পাশাপাশি আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়তেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে যত্রতত্র ময়লা ফেলেন। এতে একদিকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ তৈরি হয়ে জনসাধারণের চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি করছে। নিয়মিতভাবে ময়লা অপসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের।
আরও পড়ুন: রান্নাঘর থেকে ফিলিং স্টেশন, কুমিল্লায় তীব্র গ্যাস সংকট
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান বলেন, “জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করা এবং এলাকার পরিবেশ সুন্দর রাখার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বলেন, “শুধু একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে একটি এলাকা পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। এজন্য নিয়মিত উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। অনেকেই বাড়ি নির্মাণের সামগ্রী সড়কের ওপর রেখে দেন। এতে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
মেহেদী হাসান জানান, হেমায়েতপুরের স্থানীয় যুবকদের সম্পৃক্ত করে প্রতি শুক্রবার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনসমাগমস্থল ও আশপাশের এলাকাতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে হেমায়েতপুরকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও জনবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে শুধু ময়লা পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কোথায় ময়লা ফেলা যাবে, কোথায় যাবে না, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের পাশে যাতে কেউ পুনরায় ময়লা ফেলতে না পারে, সেজন্য নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের পরিবেশগত সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রতি শুক্রবারের এ উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালু থাকলে একদিকে যেমন ময়লা-আবর্জনার স্তূপ কমবে, অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতাও বাড়বে।





