সম্পত্তির জন্য মাকে নির্যাতনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে
জয়পুরহাটে মা ও বোনদের অংশের মাত্র অল্প পরিমাণ সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধা মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাঁটুভাঙ্গা গ্রামের মৃত আবু তাহেরের বিধবা স্ত্রী সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা হোমেরা বিবি এমন অভিযোগ করেন তার ছেলে আলী আকবরের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন বৃদ্ধা, তার স্বজন ও স্থানীয়রা।
অভিযোগে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাঁটুভাঙ্গা গ্রামের আবু তাহের ২০০৩ সালে মারা গেলে আইন অনুযায়ী স্ত্রী হোমেরা বিবি স্বামীর ১ শতক ও ৩ মেয়ে মিলে পান মোট প্রায় আড়াই শতক জমি। আর অবশিষ্ট সব সম্পত্তির মালিক হন একমাত্র স্বচ্ছল ছেলে আলী আকবর। মা ও ৩ মেয়ের সর্বমোট প্রায় সাড়ে ৩ শতক ছাড়াও মা হোমেরা বিবির নামে দলিলমূলে কেনা আছে আরও ৪ শতক বসতবাড়ি, যেখানে একটি মাত্র আধাপাকা ঘরে একাকী বসবাস করেন ওই বৃদ্ধা। অনেক আগেই ৩ মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হওয়ার কারণে স্বামী-সন্তান নিয়ে তারা সংসার করছেন যে যার মতো। এ অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ওই ঘরে প্রায় তিনি নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করলেও মাঝে মধ্যে ঘুরে বেড়ান ৩ মেয়ের বাড়ি বাড়ি।
আরও পড়ুন: নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে তিনজন নিহত, আহত-৫
হোমেরা বিবির অভিযোগ, মা-বোনের অংশের ওই সামান্য সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিতে চান ছেলে আলী আকবর। রাজি না হওয়ায় তাকে চরম নির্যাতন করছে ছেলে। নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বৃদ্ধা হোমেরা বিবি বলেন, ‘ছেলে তাকে খাবার দেয় না, গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এ ছাড়া ছেলে বৃদ্ধা মায়ের ঘরের সামনে দেয় সীমানা প্রাচীর, এতে বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে বাড়িতে আসা-যাওয়ায় কষ্টসাধ্য বলেও অভিযোগ করেন বৃদ্ধা হোমেরা বিবি।’
প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর, আজিজুলসহ এলাকাবাসীরা বলেন, অন্য বাড়ির ঘটনা, সব সময় জানা সম্ভব নয়, তবে এ বৃদ্ধ বয়সে মাকে দেখভালের দায়িত্ব একমাত্র ছেলে আকবরের, কিন্তু মায়ের ঘরের সামনে বেড়া দিয়ে মাকে অবরুদ্ধ করে আকবর ঠিক করেনি।
আরও পড়ুন: বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয়-তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর
বৃদ্ধার ৩ মেয়ে রুবিনা বানু, নাসরিন ও হামিদা বিবি এবং তার স্বামী মাহফুজার রহমান এ নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, মা ও বোনদের অংশের সামান্য সম্পত্তির কারণে ছেলে আলী আকবরের নির্যাতনের প্রতিবাদে তারা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত, থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিলেও পাননি কোনো প্রতিকার।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলী আকবর বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মা ও বোনেরা যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়।’
জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন, অভিযোগ তারও আগের, তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।





