ইরানের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন’ অর্থনৈতিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ভাষায় হবে নজিরবিহীন। তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৮ পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে নিষিদ্ধ সংগঠন
নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে এমন সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যার নজির বিশ্ব আগে দেখেনি। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আরও ঘোষণা আসার অপেক্ষা করা উচিত।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এর ফলে ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে কোনো পণ্য বা সামগ্রী প্রবেশ কিংবা বের হতে পারবে না। ওয়াশিংটনের পরিকল্পিত পদক্ষেপের লক্ষ্য হবে ইরানের ওপর নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা।
আরও পড়ুন: দুই সন্তানের জন্য হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন লেভিট
এদিকে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীকে ঘিরে ইয়েমেনের পরিস্থিতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটি ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর যেকোনো সময়ের তুলনায় আবারও বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক বিশেষ দূত।
ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ সাধারণ পরিষদকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব সংঘর্ষে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও হতাহত হয়েছেন।
ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা মারিব, হাজরামাউত, আল-মাখা (মোচা)সহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী তাইজে হুথিদের একটি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে।
এ ছাড়া ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, বুধবার কয়েকটি গভর্নরেটে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে কামান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই দিনে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান হুথিদের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আগে সব পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন গ্রুন্ডবার্গ। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের এই দূত আরও সতর্ক করেছেন, লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন করে জাহাজে হামলা শুরু হলে ইয়েমেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।





