অপ্রতিম হত্যা: চার সিসিটিভি ফুটেজে মিলেছে নতুন তথ্য

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৫ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এক আসামির মোবাইল ফোনে আসা কয়েকটি কল ও চারটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্ত এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা তদন্তের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীকে মারধর: আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততা নেই

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শুক্রবার অপ্রতিম বাসায় ছিল। তাকে বাসা থেকে বের করে আনতে অভিযুক্ত তুহিন তার মোবাইলে একাধিকবার বার্তা পাঠায় বলে তদন্তে জানা গেছে। একপর্যায়ে অপ্রতিমের আইফোন দিয়ে টিকটকের ভিডিও ও ছবি তোলার কথা বলে তাকে বাইরে আসতে রাজি করানো হয় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। পরে বেলা ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে তার দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাদের গতিবিধি ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর মৃত্যুর দায় গাজী নজরুল ইসলামের দাবি এলাকাবাসীর

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে পাশাপাশি হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা যায়। একটি ফুটেজে তাদের পেছনে আরও দুজনকে যেতে দেখা গেছে। পরবর্তী একটি ফুটেজে চারজনকে একসঙ্গে দেখা যায় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, পরে তারা লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থানে যায়। মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরের আঁকাবাঁকা কাঁচা পথ পেরিয়ে ওই এলাকায় যেতে হয়। একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে ওই পথ ধরে পাশাপাশি হাঁটতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের ধারণা, নির্জন এলাকায় পৌঁছানোর পর তাদের সঙ্গে আরও দুই কিশোর যোগ দেয়। শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অন্যরাও তার ওপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ঘটনাস্থলে অপ্রতিমের মরদেহ ফেলে রেখে মোবাইল ফোনটি নিয়ে তারা চলে যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিয়াম নামে আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। তবে ঘটনার সময় তিনি আশপাশে অবস্থান করে পাহারার মতো কোনো ভূমিকা পালন করেছিলেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। ফলে বাইরে থেকে সেখানে কী ঘটছে, তা সহজে বোঝার সুযোগ কম।

অপ্রতিমের মরদেহে মাথায় গুরুতর আঘাতসহ আরও কিছু ক্ষত পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব ক্ষতের কিছু মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে কর্মকর্তাদের ধারণা। রাতে শিয়াল মরদেহ টানাটানি করেছিল কি না, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থা।