চট্টগ্রামে পক্ষ পরিবর্তন করায় কর্মী হত্যা, সেই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:১৯ পূর্বাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৯ পূর্বাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরে যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) হত্যার ঘটনায় নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওরফে জুয়েলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রোববার (১ নভেম্বর) রাতে ঢাকা ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে জিল্লুর ও তার সহযোগী মো. আরমানকে আটক করা হয়।

এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও পক্ষ পরিবর্তন নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত জিল্লুর এবং কুমিল্লা থেকে তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে পোষাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ,টিয়ারশেল নিক্ষেপ, সড়কে আগুন

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে আবু ইউসুফের ওপর হামলা চালায়। এতে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা কেটে ফেলতে হয়। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পরদিন ২৮ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আবু ইউসুফ স্থানীয় একটি আইসক্রিম কারখানায় কাজ করতেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা গোলাম নবী বাদী হয়ে জিল্লুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সুবিধার দাবি, সরকারের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব

এদিকে, হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আবু ইউসুফের ধারণ করা একটি ভিডিও তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শেষ বক্তব্যে তিনি জিল্লুর, ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করেন। তাদের বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পা বিচ্ছিন্ন করা এবং গুলি চালানোর অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত দুই বছর ধরে নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন আবু ইউসুফ। তবে সম্প্রতি তিনি পক্ষ পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান ওরফে শিমুলের বলয়ে যোগ দেন। এ নিয়ে জিল্লুরের ভাগনে মেহেদী ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ইউসুফের বিরোধ তৈরি হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন জিল্লুর রহমান। গ্রেপ্তারের আগে তিনি দাবি করেন, আবু ইউসুফ যুবদলের কোনো কর্মী ছিলেন না; বরং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মোবারক আলীর সঙ্গে চলাফেরা করতেন। ইউসুফ তার ভাগনের বন্ধু হওয়ায় অতীতে তাকে কিছু সহযোগিতা করতেন বলেও জানান জিল্লুর। তার ভাষ্য, ‘তাকে আমি মারিনি। নিজেরা নিজেরা মারামারি করেছে।’