গোয়েন্দা ব্যর্থতায় মাঠে নেমেছে তৃতীয়পক্ষ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:০২ পূর্বাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ কমাতে চেষ্টা করলেও গোয়েন্দা ব্যর্থতায় তৃ তীয়পক্ষ ঢুকে পড়েছে আন্দোলনে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবি জানালে এরই মধ্যে মজুরী বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও তৃতীয়পক্ষের মদদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর— মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ, কারখানায় ছুটি ঘোষণা এবং যান চলাচলে বিঘ্নের ঘটনা ঘটেছে। তবে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার ইতিমধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত মজুরি দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

আরও পড়ুন: বড়দিন উদযাপনে ২ কোটি টাকা চেয়েছিল ট্রাস্ট, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি

অন্যদিকে, আন্দোলনের পেছনে কোনো মহলের উসকানি রয়েছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং সরকারের বক্তব্য মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন দেশের শিল্প ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলন নতুন করে নারায়ণগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক, পুলিশ ও বিজিবির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ও কারখানায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও শক্তি প্রয়োগ করছে। 

আরও পড়ুন: এসআরবির মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ

এরইমধ্যে আন্দোলন ও সহিংসতার জেরে সাভার-আশুলিয়ায় ২৬৪টি এবং গাজীপুরে ৫০টির বেশি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শ্রমিকদের ছদ্মবেশে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, ৫০টির বেশি কারখানায় ছুটি:বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও অসন্তোষের জেরে ঢাকাটাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ, আগুন ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও শক্তি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার ৫০টির বেশি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেড ও দিগন্ত সোয়েটার কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক ও উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও বর্জ্য ফেলে মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় এবং গাজীপুরসিলেট মহাসড়কের বাইপাস এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া কোনাবাড়ী, মৌচাক, তেলিচালা, কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে নামার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কালিয়াকৈরের চন্দ্রায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মালিকানাধীন ইন্টারস্টফ কারখানার শ্রমিকেরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাদের ঘিরে রাখেন, ফলে তারা মহাসড়কে উঠতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫টির বেশি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বেলা ১২টার পর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা প্রবেশ করলেও কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্তৃপক্ষ ৫০টির বেশি কারখানায় জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। শ্রম অসন্তোষ নিরসনে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ২৫ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গাজীপুরে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। 

আন্দোলনরত এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও আমাদের বেতন বাড়ে না। তবে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক কারখানায় শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু পরে তারা কাজের যোগদান না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। এ কারণে ৫০টি কারখানায় আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, সকাল ৮টার কিছু সময় আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কিছু শ্রমিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। 

শ্রমিকদের বিক্ষোভে অচল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড:মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে কাঠেরপুল এলাকার চারটি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকানারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় অবস্থান নেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা কাঠেরপুল এলাকার আবীর ফ্যাশন, মেট্রো নিটওয়্যার, মাইক্রো ফাইবার ও আজাদ নিট কম্পোজিটের কর্মী বলে জানা গেছে। 

তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন দুপুরের খাবারের বিরতির পর আবীর ফ্যাশনের শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে পাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে চারটি কারখানার শ্রমিকেরা একত্র হয়ে মিছিল নিয়ে মূল সড়কের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় পুলিশ শিবু মার্কেট এলাকায় সড়কে প্রবেশের মুখে বাধা দিলেও শ্রমিকরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে লিংক রোডে অবস্থান নেন। এতে সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা। এর আগে সোমবার একই দাবিতে ওই এলাকায় প্রায় ৫ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর নতুন করে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি, ড্রোন-বডি ক্যামেরায় নজরদারি:শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ পাশ্বর্ বর্তী শিল্পাঞ্চলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব এলাকায় মোট ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করেছে বাহিনীটি। 

মঙ্গলবার বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়া আশুলিয়া ও মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলগুলোর সার্বিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিভিন্ন সংযোগস্থল এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও। 

বিজিবি জানিয়েছে, শিল্পাঞ্চলে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিজিবির সমন্বিত কার্যক্রম এবং ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতা চলতে পারে: ডিসেম্বরেই নয়, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এমন চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। 

জাহেদ উর রহমান বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনা করা হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নিধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সহানুভূতিশীল অবস্থান থেকে আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। 

তিনি বলেন, আমরা বুঝতে প্রস্তুত আছি, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। আমাদের গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। এতে কোনো ভুল নেই। মূল্যস্ফীতি আছে, জ্বালানির মূল্য বাড়ছে এবং এর সূত্র ধরে অনেক কিছুরই মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। সরকার সহানুভূতিশীল হয়েই আগেই এই কমিশন তৈরি করেছে। ফলে সমস্যাটার মূল আন্দোলনের যে দাবি, সেটা তো আসলে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু মানুষের মধ্যে যে ধরনের সহিংস আচরণ দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও তাদের কাছে থাকা বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 

একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলবেন। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে আসেন, তাহলে নিজের আগের ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হলে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন।