চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, উঠেছে অর্ধকোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

Sanchoy Biswas
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৮ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই নিয়োগ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে যোগদান করানোর অভিযোগ ঘিরে বিদ্যালয়টিতে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়োগের বৈধতা, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি, সংরক্ষিত নারী শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংরক্ষিত নারী অভিভাবক প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও জাল করে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি

বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ওই নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে বিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং আলেয়া খাতুন নামে যে শিক্ষিকা আছেন, তাঁকে তিনি চেনেন না!

একই অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক প্রতিনিধি মো. জাবেদ আলী ও মো. স্বপন খান। তাঁদের দাবি, নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: মজুরি বোর্ড গঠন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের আনন্দ র‍্যালি

অন্যদিকে, অভিভাবক প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদও নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রে তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনিও।

এদিকে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান বলেন, ২০২৪ সালে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া এ নিয়োগের বিষয়ে অবগত নন বলে স্পষ্ট করেছেন। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বৈধতা, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের (যাঁর ইনডেক্স নম্বর- D481864) বিরুদ্ধে এর আগেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে অডিওটির সত্যতা, কথোপকথনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিয়োগের সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনা করা নথিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সত্যতা নিয়ে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রকাশনা যাচাই করতে দৈনিক ইনকিলাব ও স্থানীয় দৈনিক তথ্যধারার সংশ্লিষ্ট দিনের পত্রিকার কপি সংগ্রহ করা হয় বলে তাঁরা জানান। তবে সংগৃহীত পত্রিকায় চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কলাম খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ বিষয়ে পত্রিকার সংশ্লিষ্ট দিনের মূল কপি ও প্রকাশনা রেকর্ড যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন (যাঁর ইনডেক্স নম্বর- N56886579) বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী তাঁর নিয়োগ হয়েছে।

এ বিষয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অভিযোগকারী মো. সুজাত মিয়া (২৩) দাবি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র, স্বাক্ষরের সত্যতা, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় শাস্তি দেওয়া হলে সারা দেশে এ রকম অনিয়ম ও দুর্নীতি করার সাহস কেউ পাবে না।