বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:০৫ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সাভার ও আশুলিয়ার অন্তত ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: সাজেকে ফের জেএসএস-ইউপিডিএফের গোলাগুলি, সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেছেন। তাঁদের আন্দোলনের মুখে ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।

জানা যায়, রোববার সকাল থেকেই আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম, টাউজার লাইন ও নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তাঁরা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে যোগ দেন।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে মশাল মিছিল

দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকেরা। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের থামানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। তাঁদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে নিজেদের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কমফোর্ট কালেকশন নামের একটি পোশাক কারখানার অপারেটর রাজু আহমেদ বলেন, তাঁদের কারখানায় হেলপারদের বেতন মাত্র ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অন্য পোশাক কারখানায় তাঁদের বেতন তুলনামূলক বেশি। অন্যান্য কারখানায় হাজিরা বোনাস ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হলেও তাঁদের কারখানায় দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। ন্যূনতম ন্যায্য মজুরি ও ভাতার দাবিতে তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকেরা তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। তবে এ বিষয়ে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপরও শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা এ দাবিতে সড়কে নেমেছেন বলে জানান তিনি।