শেরপুরে বাঙালি নদীর উত্তোলনকৃত বালু জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা
বগুড়ায় সাম্প্রতিক বাংলাবাজার পত্রিকায় অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর শেরপুর উপজেলার বাঙালি নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে উত্তোলনকৃত বালু জব্দ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জরিমানা ও বালু জব্দের ব্যবস্থা নেয়া হয়। উক্ত অভিযান সম্পর্কে ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু জানান যে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জব্দ করা বালু ৪নং খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পিয়ার হোসেনের জিম্মায় দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশও দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: নির্বাচিত হলে ইলিশাকে মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব: কামাল সিকদার
এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন যে, বাঙালি নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা বালু ইউপি চেয়ারম্যান পিয়ার হোসেনের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা এক থেকে দেড় লাখ সেফটি বালু উত্তোলনের কথা জানিয়েছেন। তবে তার ধারণা, ঘটনা স্থলে আনুমানিক তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ সেফটি বালু রয়েছে। এর প্রকৃত পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে পরিমাপ করা হয়নি। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে জরিমানা ও বালু জব্দ করা হলেও এধরনের কার্যক্রম স্থায়ী ভাবে বন্ধ হবে কি না। তা নির্ভর করবে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থার ওপর। জব্দ করা বালুর প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের আনুমানিক বাজার মূল্য যাচাই এবং মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। বাঙালি নদীর সম্পদ রক্ষা, সরকারি রাজস্বের সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধ এবং নদীতীরবর্তী অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতাই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, উক্ত জব্দ করা বালুর পরিমাণ নিয়ে উত্তোলনকারীদের বক্তব্য ও প্রশাসনের ধারণায় পার্থক্য রয়েছে। বাঙালি নদীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে বাঙালি নদী তীরবর্তী জমি, বসতবাড়ি, কৃষি জমি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হলে সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হতে পারে। সাম্প্রতিক বাংলাবাজার পত্রিকায় অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর বাঙালি নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’, হাদি হত্যার বিচার দাবি





