নির্বাচিত হলে ইলিশাকে মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব: কামাল সিকদার

Shahrier Islam Pallab
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৮ অপরাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোলা সদরের ঐতিহ্যবাহী ২নং ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ কামাল উদ্দিন সিকদার বলেছেন, "জনগণের ভালোবাসায় নির্বাচিত হতে পারলে ইলিশাকে মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি শান্তিময় মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে সুপথে রাখতে এবং তাদের বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেই থাকবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।" সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ভোলা সদরের ২নং ইলিশা ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এক বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে কামাল সিকদার বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। এর জন্য অসংখ্য মামলা-হামলার শিকার ও জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। দলীয় কর্মকা-ের পাশাপাশি সব সময় নানা সামাজিক কাজের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি।"

আরও পড়ুন: কোনাবাড়িতে ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ইউনিট

তিনি শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীত ত্যাগ, শ্রম ও রাজপথের অবদান বিবেচনা করে বিএনপি তাকেই ইলিশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় একক মনোনয়ন দেবে।

ইউনিয়নের ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে কামাল সিকদার বলেন, "ভোলা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হলো এই ইলিশা। এখানে রয়েছে ইলিশা ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট, যা দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। নির্বাচিত হলে এসব ঘাটে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের ছিনতাই, চাঁদাবাজি বা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে দেব না। সবার নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম কাজ।"

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাঙালি নদীর উত্তোলনকৃত বালু জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

এছাড়া ইউনিয়নের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি এবং নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে আজীবন কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

তফসিল ঘোষণার আগেই তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের জোরালো সমর্থনের কথা উল্লেখ করে কামাল সিকদার জানান, স্থানীয়দের ব্যাপক উৎসাহের কারণেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিন বিকেল থেকে আয়োজিত বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউনে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শোডাউনটি ইউনিয়নের বিশ্বরোড চত্বর থেকে শুরু হয়ে ইলিশারহাট, পাকার মাথা, সুদেরহাট, জংশন বাজার ও রাস্তার মাথা, রোর্দ্দেরহাট বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনারায় বিশ্বরোড চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এদিকে তফসিল ঘোষণার আগেই গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা, দোয়া-মোনাজাত এবং শোডাউনের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এতে করে পুরো ইলিশা ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা ও চায়ের দোকানগুলোতে এখন একটাই আলোচনা কে হচ্ছেন আগামীর জনপ্রতিনিধি। সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে সম্ভাব্য সব প্রার্থীরাই এখন প্রহর গুনছেন এবং নিজ নিজ অবস্থান জোরদারে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।