দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনা, ৬-৭ কিমি ভেতরে চীনা সেনা
ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে একাধিক স্থানে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর। সীমান্তে চীনা সেনাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যে প্রতিরক্ষা জোরদারে ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি এবং মাটির নিচে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সরকারি সূত্রের বরাতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের আসাফিলা এলাকায় ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ে। ভারতের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সীমান্তরেখার ধারণা অনুযায়ী, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে তাঁবু স্থাপন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বামীর আলিঙ্গনে স্ত্রীর ৫টি পাঁজর ভাঙল, ভিডিও ভাইরাল
এর জবাবে ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারতও। তবে সীমান্তে চীনা সেনাদের অবস্থান এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলো সরকারি সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন অন ইন্ডিয়া-চায়না বর্ডার অ্যাফেয়ার্স (ডব্লিউএমসিসি) বৈঠক, বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতে অরুণাচলের বাচা-দামাই সীমান্ত পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত আলোচনা ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও আসাফিলা এলাকার পরিস্থিতির সমাধান হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সজুড়ে নতুন বিক্ষোভ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ, ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
রাজস্থানের আলোয়ারে এক অনুষ্ঠানে আইটিবিপির অবসরগামী মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন এবং অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
তাঁর মতে, চীনের মতো সামরিকভাবে আধুনিকায়িত প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় পুরোনো কৌশলের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহার বোঝাতে তিনি ইউক্রেন ও ইরানের উদাহরণও তুলে ধরেন।
সীমান্তে সেনাদের নিরাপত্তা বাড়াতে আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তের প্রতিটি অগ্রবর্তী পোস্টে মাটির নিচে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান আইটিবিপি প্রধান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মাটির ওপরের স্থাপনাগুলো সহজেই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ কারণে সেনাদের সুরক্ষায় ভূগর্ভস্থ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ভারত-চীন সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এসব পদক্ষেপ সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





