কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সুবিধার দাবি, সরকারের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব

Shahrier Islam Pallab
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য
প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:০২ পূর্বাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখলেও জেলার সাধারণ মানুষ এখনো গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে জেলার মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ জেলা। এ জেলার মাটির নিচে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র তিতাস। কসবা উপজেলায় রয়েছে সালদা নদী গ্যাসক্ষেত্র। এছাড়া মেঘনা গ্যাস কূপ, বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা হাজিপুরে একটি গ্যাস কূপ রয়েছে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে পোষাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ,টিয়ারশেল নিক্ষেপ, সড়কে আগুন

পেট্রোবাংলার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকেই দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ সরবরাহ হয়েছে। অর্থাৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটির নিচের প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, যে জেলার মাটির নিচ থেকে গ্যাস উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অর্থনীতিকে সচল রাখা হচ্ছে, সেই জেলার সাধারণ মানুষ এখনো গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

আরও পড়ুন: শেরপুর ইসলামী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকের ভুল চিকিৎসায়-থানায় অভিযোগ

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনসংখ্যা ৩৩ লাখেরও বেশি। জেলায় রয়েছে ৯টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ১০১টি ইউনিয়ন। এত বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গ্যাস ও জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন উঠেছে, যে জেলার প্রাকৃতিক সম্পদ জাতীয় অর্থনীতিতে এত বড় অবদান রাখছে, সেই জেলার মানুষের জন্য পরিকল্পিত ও ন্যায্য গ্যাস সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ থাকবে না কেন?

জানা গেছে, দেশের গ্যাসের চাহিদা ও দেশীয় উৎপাদনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ফলে গ্যাস আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি জাতীয় স্বার্থেই জরুরি।

এ প্রেক্ষাপটে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ সরকারি জরিপ পরিচালনা করা। জেলার ৯টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে গ্যাস বিতরণ সম্প্রসারণের জন্য একটি বাস্তবসম্মত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা। তিতাস ও সালদা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নতুন কূপ খনন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া। তারাপুর ও কাশিরামপুরসহ সম্ভাবনাময় এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জ্বালানি সুবিধাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।

দাবির পক্ষে বলা হয়েছে, এটি অন্য কোনো জেলার মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে দাবি নয়। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ন্যায্য উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সুষম উন্নয়নের দাবি। জাতীয় সম্পদের ওপর স্থানীয় মানুষের একচ্ছত্র মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করার কথা নয়; বরং জাতীয় সম্পদের সুষম ব্যবস্থাপনায় সম্পদসমৃদ্ধ এলাকার মানুষও যেন উন্নয়নের ন্যায্য সুফল পায়—সেটাই কাম্য।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, এই দাবি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার নয়। এটি জেলার মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গুজব, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; যুক্তি, তথ্য, আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়ন চাওয়া হয়েছে।

লক্ষ্য হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি আধুনিক, শিল্পসমৃদ্ধ, কর্মসংস্থানমুখী ও আদর্শ মডেল জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। জোরালো দাবি—তিতাস ও সালদার গ্যাসসম্পদের উন্নয়ন হোক, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান হোক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের জন্য গ্যাস সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর ও সময়বদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ করুক। ৩৩ লাখেরও বেশি ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী এই ন্যায্য দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়ন তাদের অধিকার এবং সেই উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়া তাদের দায়িত্ব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।