ওসি ধুনটের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্ট ও অর্থ নেয়ার অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত
- ধর্ষিত নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করে আলামত নষ্টের চেষ্টা ওসি'র
- ধর্ষিত নারীর দুই মাসেও হয়নি ডাক্তারি পরীক্ষা,সন্তানসহ বাড়ি ছাড়া বিধবা
- পূর্বেরও রয়েছে বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ-নেয়া হয়নি ব্যবস্থা
- পূর্বের অপরাধের দায়ে রয়েছে ওসিকে এসপি'র শোকজ
বগুড়া ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ওসমান গণির বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্ট ও অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া ধুনটে নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তা গত দুই মাস পার হয়ে গেলেও ভুক্তভোগী এক বিধবা নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করেনি ধুনট থানা পুলিশ। উল্টো ভুক্তভোগীকে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে তিন কন্যা সন্তানসহ তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে আসামি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। উক্ত ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ওই ভুক্তভোগী নারী।
এতে ভুক্তভোগী নারী জানায় যে, গত ২১শে আগস্ট রাতে ধুনটের নিজ বাড়িতে ঢুকে গলায় ছুরি ধরে তাকে ধর্ষণ করে নিকটাত্মীয় রেজাউল ইসলাম। পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ধুনট থানায় অভিযোগ করে তিনি। তবে থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় গত ২৭শে আগস্ট বগুড়া জেলা জজকোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ একটি ১৬৩/২০২৬ (ধুনট) নারী যাহার জিআর নাম্বার ১৭১/২৬ ধুনট মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গত ১৩ই সেপ্টেম্বর মামলাটি রেকর্ড করে থানা পুলিশ।
এছাড়াও উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ওসমান গণির বিরুদ্ধে ওই ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে যে, ডাক্তারি পরীক্ষার খরচ বাবদ ৪ হাজার টাকা দিলেও দুই মাসেও তার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়নি। এতে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। এরই মধ্যে মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে তাকে তিন সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। গত ৩১শে অক্টোবর এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করে তিনি। সরেজমিনে গিয়ে ওই নারীকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়।
অপরদিকে ধুনট থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমান গনি মুঠো ফোনে দাবি করেন যে, ভুক্তভোগী নারী ডাক্তারি পরীক্ষায় রাজি হয়নি। তবে এবিষয়ে থানায় সাধারণ ডাইরীতে নোট বা ভুক্তভোগীর লিখিত নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ওসমান গনী সদুত্তর দিতে পারেনি।
এদিকে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বক্তব্য নিতে গেলে বারবার ক্যামেরার বন্ধ করার তাগিদ দেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি জানান যে, মামলাটি তদন্ত চলছে। ধর্ষিত নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার আলামত যে কোন সময় পরীক্ষা করা যেতে পারে।
অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোজাম্মেল হক বলেন যে, ধর্ষিত নারীর আলামত সংগ্রহে এমন দীর্ঘ সূত্রতা স্পষ্টতই আইনের ব্যত্যয়। এমনকি আইন অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারে। পুলিশ সময় ক্ষেপন করে স্পষ্ট আলামত নষ্টের চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন যে, ধর্ষিত নারীর আলামত সংগ্রহে আইনের ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও ভুক্তভোগী নারীর দ্রুত আলামত সংগ্রহসহ মামলার তদন্ত খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।





