ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‌‘অর্ণব’

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৫ পূর্বাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৫ পূর্বাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল এবং ইয়ানামের কাছ দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এ সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে নাটকীয় লড়াই

অন্ধ্রপ্রদেশে উচ্চ সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও দক্ষিণ ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়কে গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। সড়ক থেকে গাছ সরাতে কাজ করছে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী।

আরও পড়ুন: সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ২১, আহত অন্তত ৪০

ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু ফ্লাইট ও ট্রেন। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বহু মানুষকে এসব কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গর্ভবতী নারীদেরও চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। 

পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টি, একাধিক জেলায় সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া দেখা দিয়েছে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বুধবার হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

বৃহস্পতিবারও কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ। শনিবারও পাহাড় ও সংলগ্ন পাঁচ জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

 সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা