পেকুয়ায় তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন আর নেই

Any Akter
নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৬ অপরাহ্ন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রবীণ শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে ১ টা ৩০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।

তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর এক ছেলে অ্যাডভোকেট রাশেদুল কবির পেশায় আইনজীবী।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বাণিজ্য মেলা না করার আহবান ব্যবসায়ী সমিতির

মরহুম কামাল হোসেন পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোয়াখালী এলাকার মরহুম আলহাজ কবির আহমদ সওদাগরের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পেকুয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন ছিলেন পেকুয়ার শিক্ষা, রাজনীতি ও আইন অঙ্গনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই গুণী ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অঞ্চলের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষক ছিলেন।

আরও পড়ুন: টুপটুপে নিহত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনকালে সততা, নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় সরকারের আমলেই শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন বলে জানা গেছে। তিনি একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ছিলেন।

দলমত-নির্বিশেষে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এই জনপ্রতিনিধি স্থানীয় পর্যায়ে একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রসারেও তাঁর ভূমিকা ছিল।

তাঁর মৃত্যুতে পেকুয়া একজন প্রবীণ শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধিকে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।