স্ত্রীর যৌতুক মামলায় কারাগারে ইউপি সচিব

Sadek Ali
‎‎নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৬ অপরাহ্ন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

‎‎নেত্রকোণায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় মো. মান্নান হোসেন (৪৪) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিবকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) আটপাড়া আমলি আদালত এ আদেশ দেন। তিনি জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত।

‎‎মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, স্ত্রীর বেতনের টাকা নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে চাপ দেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই সন্তানের জননী ওই নারী আদালতের শরণাপন্ন হন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বাণিজ্য মেলা না করার আহবান ব্যবসায়ী সমিতির

‎‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়েতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৯ ও ৫ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মান্নান হোসেন নেত্রকোণা সদর উপজেলার বড়ওয়ারী এলাকার দিগজান গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন।

‎‎বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তাঁর স্বামী প্রতি মাসে বেতনের পুরো টাকা নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে চাপ দিতেন। একপর্যায়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্বামীকে জমি কিনে দেওয়ার পরও তাঁর কাছে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি নেত্রকোণা শহরে বসবাস শুরু করেন।

আরও পড়ুন: টুপটুপে নিহত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর

‎‎অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ জুলাই বাদীর বাসায় গিয়ে টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন তাঁর স্বামী। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৯ আগস্ট যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় আটপাড়া আমলি আদালতে মামলা করেন ওই নারী।

‎‎মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আদালত এর আগে আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। তবে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমঝোতা না হওয়ায় গত রোববার আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

‎‎গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি পারিবারিকভাবে তাঁদের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুই পক্ষকে সমঝোতায় রাজি করাতে পারিনি।”

‎‎বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুখলেসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “বিরোধ মীমাংসার সুযোগ দিতে আদালত একবার আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় গত রোববার আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”