সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান

হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টা ব্যর্থ

Sanchoy Biswas
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৭ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কথিত ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে জোরালো টহল ও কড়া নজরদারির কারণে বিএসএফের ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকার ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলারের ১১-এস সাব-পিলারসংলগ্ন সীমান্তে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তা বাতির সুবিধা সীমিত করে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে যেতে বাধ্য করে।

আরও পড়ুন: টানা ভারী বৃষ্টিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা

এ সময় স্থানীয় সীমান্তবাসীও বিজিবির কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। পরে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের কথিত ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি সীমান্তে নারী, শিশু ও বিভিন্ন পরিচয়ের ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা একাধিকবার প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব ঘটনায় সীমান্তে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসারে এ ধরনের একতরফা ‘পুশ-ইন’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সীমান্তে অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যেকোনো ব্যক্তিকে নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়া ও দ্বিপক্ষীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি।

সীমান্ত নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত অখণ্ডতা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা কঠোর ও পেশাদার অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।