ছয় মাস পর খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলেছে ৪৩ বস্তা টাকা

Sadek Ali
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ছয় মাস পর খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সীমান্ত হত্যা বন্ধে কুলাউড়ায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা নাসিরুদ্দিন ও সারজিসের

সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর তা খোলা হয়েছে। প্রতি বারই দানবাক্স খোলার সময় আগের রেকর্ড ভেঙেছে। ফলে এবারও নতুন রেকর্ড গড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৩টি দানবাক্স থেকে মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে টাকা গণনার কাজ। দানবাক্স খোলা ও গণনা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আসামিকে মারধরের অভিযোগে এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

সবশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। সে সময় ১৩টি দানবাক্সে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, সব ধর্মের মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ একটি সার্বজনীন পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, একনিষ্ঠ নিয়তে এখানে দান করলে মনের বাসনা পূরণ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই মানুষ এখানে বিপুল পরিমাণ দান-খয়রাত করেন। অনেকেই রোগমুক্তি, উচ্চশিক্ষা, সন্তান লাভসহ বিভিন্ন মানত পূরণের উদ্দেশ্যে দান করেন। শুধু অর্থ নয়, স্বর্ণালংকার, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু এবং অন্যান্য সামগ্রীও দান করা হয়।

লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্দা নদীতে মাদুরে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের স্থানে অবস্থান নেন। পরে তাঁকে কেন্দ্র করে ভক্তদের সমাগম বাড়তে থাকে। তাঁর মৃত্যুর পর কবরের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, যা বর্তমানে ‘পাগলা মসজিদ’ নামে সুপরিচিত।

১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেট মসজিদটির পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। প্রায় আড়াইশ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক এই মসজিদটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নরসুন্দা নদীর তীরে ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত।