ফর্টিফাইড আটার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে টেকনোসার্ভের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:১০ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি মোকাবেলায় ফর্টিফাইড আটার সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা আয়োজন করেছে মিলার্স ফর নিউট্রিশন, যা টেকনোসার্ভের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শনিবার (১৭ মে) ঢাকার গুলশানের লেকশোর হাইটস হোটেলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মিল মালিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং পুষ্টি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অংশ নেন। সেখানে ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি মোকাবেলায় আটায় পুষ্টি উপাদান সংযোজনের গুরুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: দেশের বাজারে আবারও কমলো সোনা ও রুপার দাম

উদ্বোধনী বক্তব্যে টেকনোসার্ভের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গুলজার আহম্মেদ বলেন, “মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতির কারণে দেশে লাখো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।”

তিনি খাদ্য ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম সফল করতে সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তিনি বলেন, “ফর্টিফাইড আটা শুধু পুষ্টির নিশ্চয়তা দেয় না, এটি একটি টেকসই জনস্বাস্থ্য কৌশল। জনগণ এখন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হচ্ছে, তাই এই উদ্যোগকে বাণিজ্যিকভাবে আরও প্রসারিত করা প্রয়োজন।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (এসডিএম) আফিফ আল মাহমুদ ভূঁইয়া, বিএসটিআই-এর উপপরিচালক এস এম আবু সাঈদ এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিলার্স ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান।

টেকনোসার্ভের সিনিয়র ফুড ফর্টিফিকেশন স্পেশালিস্ট মো. নাঈম জোবায়ের তার মূল প্রবন্ধে বলেন, “আটায় পুষ্টি উপাদান সংযোজন একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান। এটি শুধু জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

তিনি ফর্টিফিকেশন প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সরকার, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিলার্স ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. মঈন উদ্দিন মাসুদ এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর শাকরুল আলম সীমান্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার শিগগিরই দেশের ওএমএস কর্মসূচিতে আটা ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করতে পারে।

এছাড়াও কর্মশালায় মিলার্স ফর নিউট্রিশনের স্ট্র্যাটেজিক ফর্টিফিকেশন পার্টনার হেক্সাগন নিউট্রিশন, বুলার, ডব্লিউএফপি, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল ও গেইনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং খাদ্য ফর্টিফিকেশন উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, “ফর্টিফাইড আটার মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মনীতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই কর্মশালা প্রযুক্তি, নীতি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অপুষ্টিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, মিলার্স ফর নিউট্রিশন কর্মসূচিটি টেকনোসার্ভের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এটি গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত।