কুকসু নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু)-এর খসড়া গঠনতন্ত্র দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে তারা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উত্থাপন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের বিকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যা সমাধানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়নের উদ্যোগকে ইতিবাচক অগ্রগতি উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, "প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার পর দ্রুত অনুমোদন দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।" স্মারকলিপিতে এসংক্রান্ত চার দফা দাবিও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬৮ কর্মচারী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত
খসড়া গঠনতন্ত্র দ্রুততম সময়ে পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা; নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ও সময়সূচি প্রকাশ করা; নির্বাচন আয়োজনে নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল নির্বাচন কমিশন গঠন করা এবং নির্বাচনের সব কার্যক্রমে সব শিক্ষার্থীর সমান অংশগ্রহণ, প্রার্থীদের সমান অধিকার ও অবাধ, সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এ ব্যাপারে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঞা বলেন, "কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বাস্তবায়নে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্যোগ নেবে।"
আরও পড়ুন: এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ডিসেম্বরের ২ ও ৩ তারিখ
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দিন ইফতি বলেন, "শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের শূন্যতা দূর করতে আমরা অবিলম্বে কুকসু নির্বাচন দাবি করছি। দ্রুততম সময়ে গঠনতন্ত্র অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক। কুকসু কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সংগঠনের স্বার্থ নয়, এটি সব শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার।"
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ শেখ বলেন, "ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও গণতান্ত্রিক অধিকার। শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরাই কেবল প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারেন। খাবার, গবেষণা কিংবা বরাদ্দের সংকটসহ সব ক্ষেত্রে প্রশাসনকে দায়বদ্ধ করার প্রক্রিয়া হলো ছাত্র সংসদ। আমরা চাই, কোনো বিলম্ব ছাড়াই নির্বাচন নিশ্চিত করা হোক।"
এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করিম বলেন, তখন পার্লামেন্ট না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ছাত্র সংসদগুলোর গঠনতন্ত্র পাশ করার সুযোগ ছিলো। যেহেতু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র পাশ করাতে হবে তাই সেটি এখম সংসদে উত্থাপন করতে হবে। কারণ এখন পার্লামেন্ট আছে। স্থানীয় মেম্বার অব দ্য পার্লামেন্টের মাধ্যমে সেটা করতে হবে।





