জিপিএ-৫ বেড়েছে ৩ হাজার ৭৯ জনের
এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণে ফেল থেকে পাস ৪ হাজার ৫৮৫
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পুনর্নিরীক্ষণের সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সিরাজুল হকের ইন্তেকাল
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। এসব আবেদনের ভিত্তিতে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫৫ হাজার ২৫৯টি খাতায় নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে।
কোন বোর্ডে কত পরিবর্তন
আরও পড়ুন: কুবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
ঢাকা বোর্ডে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি খাতা দেখা হয়। এতে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড এবং ২১ হাজার ৬৯ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ৩৩৭ জন ফেল থেকে পাস করেন এবং ৯০৬ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পান।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড
রাজশাহী বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ জন। তাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা। এতে ৬৩১ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ৪০০ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ১১১ জন ফেল থেকে পাস এবং ৭৭ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড
এই বোর্ডে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯২৯ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৯১ হাজার ৪৯৪টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ২ হাজার ১৫৫ জনের গ্রেড এবং ৪ হাজার ৭০ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। ফল সংশোধনের পর ৩৩৬ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২০৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড
যশোর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন। আবেদন করেন ২৮ হাজার ৮৬২ জন। মোট ৭৪ হাজার ৭১৭টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ৬৮৪ জনের গ্রেড এবং ১ হাজার ৭৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এ বোর্ডে ৩৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ১৮২ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
চট্টগ্রাম বোর্ডের ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। এতে ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়। ১৯০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ৮৩ জন নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড
বরিশাল বোর্ডে মোট ৮০ হাজার ৪৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৩ জন আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণ করা হয় ৫০ হাজার ২৯৩টি খাতা। এতে ১ হাজার ৫ জনের গ্রেড এবং ৩ হাজার ১১৮ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। ৭৯ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে ১১২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড
সিলেট বোর্ডে ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ হাজার ৭৮৩ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ২৮৬ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৫৮৭ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। ফল পরিবর্তনের পর ১৮৬ জন ফেল থেকে পাস এবং ১২১ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড
দিনাজপুর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯৬ জন আবেদন করেন। মোট ৮৯ হাজার ২৮৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৩৫৪ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৬৩৬ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। ৮৬৭ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২৭৫ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ৭১ হাজার ৬৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৩২১ জনের গ্রেড এবং ৬ হাজার ৫০৮ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। বোর্ডগুলোর মধ্যে এখানে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। পাশাপাশি ৭৭৭ জন নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ১২০ জন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩টি খাতা দেখা হয়। এতে ১ হাজার ৫৪৯ জনের গ্রেড এবং ৫ হাজার ৯৪৪ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। ফল সংশোধনের পর ২৫৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ২৯৩ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন ২০ হাজার ৩০৭ জন। মোট ৩৪ হাজার ৩০৫টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে ৬৬৭ জনের গ্রেড ও ১ হাজার ১৭২ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ বোর্ডে ৬৬৪ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং ৪৬ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের ফলে যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে, তারা সংশোধিত ফল অনুযায়ী পরবর্তী শিক্ষাজীবনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।





