নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘিরে অনিশ্চয়তা, ৪ হাজার ৩৮২ জনের চাকরি বহালে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি
আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) এর আওতায় নির্মিত ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগের ফলে প্রকল্পে কর্মরত ৪ হাজার ৩৮২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাদের চাকরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারকে ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের সম্মাননা প্রদান
নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক ও কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এ বাস্তবতায় নগরবাসীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ১৯৯৮ সাল থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে এ প্রকল্প পরিচালিত হয়ে আসছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ ও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ওপর ন্যস্ত রয়েছে। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ৩৩১টি পৌরসভা থাকলেও প্রকল্পের আওতায় মাত্র ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ১৮টি পৌরসভায় সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রায় ৭ কোটি নগরবাসীর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এ সেবার আওতায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
প্রকল্পের আওতায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় ৩০টি নগর মাতৃসদন কেন্দ্র (CRHCC) এবং ১৬২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (PHCC) নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার তত্ত্বাবধানে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৪,৩৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে ৯৮৭ জন এবং নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩,৩৯৫ জন কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক, ল্যাব টেকনিশিয়ান, এফডব্লিউভি, মাঠকর্মী ও অন্যান্য স্টাফ অন্তর্ভুক্ত।
প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩৪ লাখ ৬০ হাজার প্রসব-পূর্ব সেবা এবং ১০ লাখ প্রসব-পরবর্তী সেবা প্রদান করা হয়েছে। নরমাল ও সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুর জন্ম নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৯ লাখ ১৪ হাজার আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
শিশুদের ৯৯ লাখ ২০ হাজার টিকা প্রদান করা হয়েছে। ১৬ লাখ ৬৭ হাজার কিশোর-কিশোরীকে অ্যাডোলেসেন্ট রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ সেবা দেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ২৪ লাখ শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। ১২ লাখ মা ও শিশুকে পুষ্টি সেবা দেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ৬৫ লাখ দরিদ্র নগরবাসীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৭০ লাখ মানুষকে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, এডিবি, নগরবাসী ও বিভিন্ন অংশীজনের প্রশংসা অর্জন করেছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এডিবি পঞ্চম পর্যায়ে নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
তবে সম্প্রতি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় কর্মরত ৪,৩৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জনস্বার্থে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বহাল রাখার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





