কোরবানির পশুর লাথি-গুঁতায় পঙ্গু হাসপাতালে ৩৩ জন, ১৫ ঘণ্টায় আহত ১৬৮
পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাই ও নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। গরুর লাথি, গুঁতা, দড়ির টান এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা ও রগ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোরবানি সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় আহত ৩৩ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে আহত হয়েছেন আরও ১৬৮ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পঙ্গু হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দিন সকাল থেকেই আহত রোগীদের ভিড় বেড়েছে। বেশিরভাগ রোগী কোরবানির পশু নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।
ঢাকার তুরাগ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মামুন তালুকদার জানান, কোরবানির গরুর গুঁতায় তিনি বাম হাতের দুটি আঙুল হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “গরুটি অনেক চঞ্চল ছিল। কিনে আনার সময়ও কয়েকবার ফেলে দিয়েছিল। পরে কোরবানির জন্য বেঁধে রাখার সময় গরুটি গুঁতা দিলে আমার হাত টিনের ওপর পড়ে যায়। এতে দুটি আঙুল কেটে যায়।”
আরও পড়ুন: আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু
মিরপুরের টোলারবাগ এলাকা থেকে আসা মোহাম্মদ তুষার মুফতি জানান, গরু ফেলার সময় দড়ি পিছলে গিয়ে তার হাতের আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। তিনি বলেন, “গরু পড়ে যাওয়ার সময় দড়ির টানে আমার বাম হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়।”
নিটোরের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জীবনানন্দ হালদার বলেন, “গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে মোট ১৬৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে কোরবানি সংশ্লিষ্ট আহত রোগী ৩৩ জন। মোট ৮৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজকে মূলত আঙুল কাটা, রগ কাটা, হাত-পা ও কোমরে আঘাতের মতো কোরবানি-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনার রোগী বেশি এসেছে। এছাড়া গতকাল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার রোগীও বেশি ছিল। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন।”
চিকিৎসকরা কোরবানির পশু জবাই ও নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ব্যক্তির সহায়তায় কোরবানি সম্পন্ন করা এবং নিরাপদ সরঞ্জাম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।





