ইউক্রেনের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা রাশিয়ার
রাশিয়া ও ইউক্রেন পৃথকভাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া সোমবার (০৪ মে) ঘোষণা করেছে যে তারা ৮ থেকে ৯ মে পর্যন্ত একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে। তারা আরও জানায়, এই সময়ে মস্কো তার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিজয় দিবস উদযাপন করবে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, যদি ইউক্রেন এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে, তাহলে কিয়েভের ওপর ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানো হবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি ও আল-জাজিরার
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে যে পাঁচ কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী বিপর্যয়
অন্যদিকে ইউক্রেনও ৬ মে থেকে নিজস্ব যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, রাশিয়ার সামরিক ছুটির সময় যুদ্ধবিরতি মানা হবে এমন প্রত্যাশা করা ‘গুরুত্বপূর্ণ বা বাস্তবসম্মত নয়’।
দুই পক্ষের মধ্যে এই বাকবিতণ্ডা এমন সময় ঘটছে, যখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কারণ ওয়াশিংটন এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: চীনে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২১
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেন, সোমবার রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত নয় জন নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন মস্কোর একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত একটি বহুতল ভবনে আছড়ে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা আশা করছে, ইউক্রেনও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে।
একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দেয়, যদি কিয়েভ তা ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়া ‘কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালাবে।
পাশাপাশি তারা কিয়েভের সাধারণ মানুষ ও বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোকে শহর ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় বার্তা পরিষেবা ম্যাক্স-এ একটি পোস্টে জানায়, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বা কমান্ডার-ইন-চিফ ভøাদিমির পুতিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৮ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
তারা আশা প্রকাশ করেছে, ইউক্রেনও একই পদক্ষেপ অনুসরণ করবে।
রাশিয়া প্রতি বছর রেড স্কয়ারে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয় দিবস উদযাপন করে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার বলেছেন, মস্কোকে বিজয় দিবস উদযাপন করতে দেওয়ার জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ নয়’।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া সম্ভবত ভয় পাচ্ছে যে ইউক্রেনীয় ড্রোন রেড স্কয়ারের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে পারে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, আজ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির বিষয় নিয়ে রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি।
জেলেনস্কি আল -জাজিরাকে বলেন, মানুষের জীবন যেকোনো উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। এখন সময় এসেছে রাশিয়ার নেতাদের যুদ্ধ শেষ করার বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার।
তবে ইউক্রেন ৫ থেকে ৬ মে রাত ১২টা থেকে নিজস্ব যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।
পরে ইউক্রেনের একটি প্রতিনিধি দলের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে বাহরাইনে পৌঁছেছেন।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত নয় জন নিহত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
খারকিভের কাছে মেরেফা শহরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাত জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয় এবং বহু মানুষ আহত হয়।
দক্ষিণ জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের ভিলনিয়ানস্ক গ্রামে আরেকটি হামলায় আরও দুই জন নিহত হয়।
অন্যদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ ছাড়া মস্কোর একটি আবাসিক ভবনেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।





