ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, নিহত ৫
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ উঠেছে। একটি বাড়িতে চালানো ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার ভোরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন চলাকালে বাড়িটিতে ‘বর্বর’ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
পরে সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে জানান, হামলায় আরও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫০ জন নারী ও শিশু। তাদের সবাইকে কাছের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বক্তব্যও প্রকাশ করেছে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স। ওই শিশু জানায়, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই সে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছিল।
আরও পড়ুন: কুয়েত-জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান
শিশুটির ভাষ্য, সেখানে পৌঁছানোর পরপরই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরো তার মুখ ও মাথায় আঘাত করে। এতে অনেক মানুষ আহত হন। অনুষ্ঠানে থাকা সবাই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন বলেও জানায় সে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টার জবাবেই ইরানের বিভিন্ন ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনা, মাইন পাতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা হয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা এখনো চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই মার্কিন হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলাকে এর আগে সংঘটিত হামলার ধারাবাহিকতা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাব ও লামের্দে চালানো হামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ইরানের দাবি, মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। আর লামের্দে একটি ক্রীড়া হলে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন।
কুহেস্তাকের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা কোনারাক, বান্দার আব্বাস ও কিশ দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পাল্টা হামলায় জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। কুয়েতও কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা





