টানা ১০ দিন ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান, বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় ৯ কোটি মানুষ

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ন, ০৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ০৯ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে সরকার আরোপিত নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট টানা ১০ দিনে পৌঁছেছে। সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ কার্যত বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের নাগরিকরা টানা প্রায় ২১৬ ঘণ্টা ধরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রায় সম্পূর্ণ শাটডাউনের সমতুল্য।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর যৌথ আলোচনায়

এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তথ্য আদান–প্রদানও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

নেটব্লকসের মতে, রাষ্ট্রীয়ভাবে আরোপিত এই শাটডাউনের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি মানুষের ডিজিটাল যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে মার্কিন কর্মীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ জরুরি সেবা গ্রহণ, ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা ও যোগাযোগনির্ভর খাতও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইরানের এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ বন্ধ করা এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সীমিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি কঠোর পদক্ষেপ।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুধু সাধারণ মানুষের জীবনেই প্রভাব ফেলছে না, বরং দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসা, ডিজিটাল সেবা এবং যোগাযোগনির্ভর খাতগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে দেশটির হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি দপ্তর ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে নেটব্লকস। এই ‘ডিজিটাল নীরবতা’ কতদিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা দেয়নি Iran সরকার।

তথ্যপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির ভেতরে ঠিক কী ঘটছে, তা জানা এখন বহির্বিশ্বের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা সংঘাত সংক্রান্ত খবরও প্রকাশ্যে আসা কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।