ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটর

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১২ পূর্বাহ্ন, ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৮:০৩ পূর্বাহ্ন, ১৬ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যকে দ্রুত গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডেমোক্র্যাট দলের এই সিনেটর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে-এ দেওয়া একাধিক পোস্টে বলেন, যুদ্ধ ইতোমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে সহিংসতার ভয়াবহ চক্রে নিক্ষেপ করেছে।

আরও পড়ুন: ‘সাহস থাকলে ট্রাম্প তাঁর জাহাজ উপসাগরে পাঠাক’

মারফি লিখেছেন, ট্রাম্প ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে গুরুতর ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। তার মতে, বর্তমানে পুরো অঞ্চল অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম বড় সংকট তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়।

আরও পড়ুন: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয়

মারফির মতে, তেহরানের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অচল করে দেওয়ার সক্ষমতাকে ওয়াশিংটন অবমূল্যায়ন করেছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প মনে করেছিলেন ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, আর এখন তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

সিনেটর মারফি বলেন, ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট ও সামুদ্রিক মাইন ব্যবহারের কারণে এই জলপথ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব অস্ত্র সংখ্যা বেশি এবং বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকায় সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া মার্কিন নৌবাহিনী-কে বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

মারফির মতে, দ্বিতীয় সংকট তৈরি হয়েছে আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে। তিনি বলেন, ইরান স্বল্প খরচে তৈরি সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলা চালাতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর এলাকায় কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মারফি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইতোমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন কীভাবে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। তার মতে, ট্রাম্প যদি এই যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিতেন, তাহলে হয়তো বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

এদিকে যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে আসছে।

মারফি বলেন, সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। হিজবুল্লাহসহ ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে এবং ইরাক-ভিত্তিক কিছু গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযানের হুমকি দিয়েছে, যা নতুন একটি আঞ্চলিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

মারফির মতে, এই সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রণাঙ্গনও শিগগিরই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।