ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার সময়সীমা আবারও বাড়ালেন ট্রাম্প

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৭ পূর্বাহ্ন, ২৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৫ পূর্বাহ্ন, ২৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা আবারও পিছিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, ইরানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরান।

আরও পড়ুন: যুদ্ধে সেনা সংকট, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সতর্কবার্তা ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের

এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালি চালু না হলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। পরে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রথমে সময় বাড়ানো হয়, আর এবার দ্বিতীয় দফায় আরও সময় দেওয়া হলো।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাব, শর্তে যা থাকল

এদিকে এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ধরনের পদক্ষেপকে যুদ্ধাপরাধের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক স্থাপনা—বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনে না পড়ে।

চলমান এই সংঘাতের শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান চালায়। এরপর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সংঘাত শেষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। যদিও তেহরান তা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনার কথা বলা এবং অন্যদিকে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা—এই দ্বৈত কৌশল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।