নিরাপত্তার নামে বাংলাদেশ সীমান্তের নদীগুলোতে কুমির ও সাপ ছাড়তে ভারতের পরিকল্পনা

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:৩৩ পূর্বাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এক অদ্ভুত কিন্তু কৌশলগত পরিকল্পনার সম্ভাবনা যাচাই শুরু করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনায় নদীমাতৃক ও দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলে কুমির ও সাপের মতো সরীসৃপ মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশের বড় অংশ নদী ও জলাভূমি দ্বারা বেষ্টিত। এসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বিএসএফ প্রকৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার দিকে মনোনিবেশ করছে।

আরও পড়ুন: আগ্রাসন হলে ‘নতুন সামরিক প্রযুক্তি’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২.৬৫ লাখ সদস্যের মধ্যে বড় অংশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকে। এছাড়া বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার কারণে কিছু সদস্য সীমান্ত পাহারায় পুরোপুরি সক্রিয় নন। এই কারণেই সরীসৃপ ব্যবহারের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভারতের এই পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের এক পরিকল্পনার অদ্ভুত মিল রয়েছে। ফ্লোরিডার ‘অলিগেটর আলকাট্রাজ’ কেন্দ্র এবং মেক্সিকো সীমান্তে কুমির ব্যবহার নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার সঙ্গে তা তুলনীয়। তবে ভারত বিষয়টিকে বাস্তব নিরাপত্তা প্রয়োজনে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

আরও পড়ুন: ‘ইরান শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে, এখন চুক্তি করতে চায়’: ট্রাম্প

বিএসএফের আধুনিকীকরণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। তবে সীমান্তের ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা এখনও বেড়াহীন, যার মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমি হওয়ায় বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে সরীসৃপ মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে।