হরমুজ প্রণালি বন্ধে সার সংকট, বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনে বড় ঝুঁকি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সার সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলর সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সারের চালান প্রায় থমকে গেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে ব্যয় বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের দামে।

আরও পড়ুন: মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে ১৯ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে এশিয়ায় পৌঁছাল ইরানি ট্যাংকার

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং এটি ফসল রোপণের সময়সূচির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ তৈরি করছে।

তিনি জানান, এশিয়ার কিছু দেশে ইতোমধ্যে বপন মৌসুম পেরিয়ে গেছে, ফলে উৎপাদন কমার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলর মতো বড় কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো কম নাইট্রোজেন নির্ভর ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে। এতে গম ও ভুট্টার পরিবর্তে সয়াবিন চাষ বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফা প্রস্তাব দিল ইরান

এছাড়া জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তোরিও বলেন, ইতোমধ্যে গম ও সয়াবিনের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হতে পারে এবং আগামী বছরে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য শুধু কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে জ্বালানি খরচও জড়িত। ফলে সার সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্মিলিত প্রভাব খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই সংকট আরও গভীর হয়ে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।


সূত্র: আল জাজিরা।