কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, ডব্লিউএইচওর জরুরি সতর্কতা

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৮ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে নতুন করে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানায়, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের সন্দেহভাজন মৃত্যু এবং ২৪৬ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে, তবে এটিকে এখনো বৈশ্বিক মহামারি বা প্যান্ডেমিক ঘোষণা করা হয়নি।

আরও পড়ুন: ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশা,ভারতে এলো ৭ মিনিটের ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমান আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রকৃত পরিস্থিতির তুলনায় কম হতে পারে। কারণ মৃত্যুর হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে আরও বড় পরিসরে সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

ইতোমধ্যে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় কঙ্গো থেকে আসা দুই ব্যক্তির শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। এছাড়া কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও ইতুরি প্রদেশ থেকে ফেরা এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহে ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়ুসাস দ্রুত একটি জরুরি কমিটি আহ্বান করবেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার অত্যন্ত বিরল ও বিপজ্জনক ‘বুন্দিবুগিও’ ভ্যারিয়েন্ট। এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এর মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, প্রথম আক্রান্ত ছিলেন একজন নার্স, যিনি গত ২৪ এপ্রিল ইতুরির বুনিয়া হাসপাতালে ইবোলার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। পরে খনি অধ্যুষিত মংবওয়ালু স্বাস্থ্য জোন থেকে রোগটি দ্রুত বুনিয়া ও রুয়াম্পারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জিন কাসেয়া জানান, ইতুরি অঞ্চলে আইএস-সমর্থিত জঙ্গিদের হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ফলে নজরদারি ও জরুরি স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

ডব্লিউএইচও আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়া এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন পর্যন্ত ভ্রমণ সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সংস্থাটি সীমান্ত বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ভয়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত রোগ সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।