ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলার ছাড়াল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর কয়েক দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে একদিনেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

আরও পড়ুন: লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু: তদন্তে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের প্রমাণ

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রতি থার্ম প্রায় ১৫০ পেন্সে পৌঁছেছে, যা জুনের শেষ দিকে ছিল প্রায় ৯৮ পেন্স।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমে এলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। তেলের দাম বাড়লে সাধারণত পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর পড়ে।

যুক্তরাজ্যে গত আড়াই সপ্তাহে প্রতি লিটার পেট্রোলের গড় দাম প্রায় ৫ পেন্স বেড়ে ১ দশমিক ৫৬ পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১ দশমিক ৭২ পাউন্ড।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম আবারও ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ৩ দশমিক ৯২ ডলার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে বলেছেন, দীর্ঘ সময় মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকা মেনে নেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ালেও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ফেড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তবুও গত মাসে কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে ফেড সুদের হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে।