দ্রুত জয় নয়, দীর্ঘ যুদ্ধের আশঙ্কা

ইয়েমেনে ফের যুদ্ধের দামামা, সানা ও লোহিত সাগর নিয়ন্ত্রণে নতুন লড়াই

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনে আবারও বড় আকারের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর দেশটিতে এখন সবচেয়ে তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। সোমবার তাইজ, আল-বায়দা ও আল-জাওফ প্রদেশে লড়াই তীব্র হয়ে ওঠে। এর মধ্যে আল-জাওফকে ইরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানায় প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে দেখা হয়।

আরও পড়ুন: তিব্বতে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, নেপালেও কম্পন

অন্যদিকে হুথিরা দাবি করেছে, সরকারি বাহিনীর কয়েকটি অগ্রযাত্রা তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাত ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত যুদ্ধকে নতুন করে জ্বলে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানি হামলায় মার্কিন দুই জাহাজ ও ৮ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত

গত জুলাইয়ে উত্তেজনার শুরু হয়। সে সময় ইয়েমেন সরকার দাবি করেছিল, হুথি নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে এবং ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে সেখানে অবতরণ করতে দেওয়া হয়নি। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও হামলা হয়।

গত সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। হুথিরা বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে পশ্চিম তাইজ ও দক্ষিণ হোদেইদাহ হয়ে আল-মাখা বা মোখা বন্দর এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।

নতুন এই যুদ্ধপর্বে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য রাজধানী সানা পুনর্দখল করা। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেবের আশপাশের এলাকাও দুই পক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান হরমুজ প্রণালির কার্যত চলাচল সীমিত করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ২০২৩ সাল থেকেই হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে।

দ্রুত জয় নয়, দীর্ঘ যুদ্ধের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের শুরু থেকে এই মুহূর্তে সরকারি বাহিনীর হাতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে এতে দ্রুত জয় আসবে—এমন ধারণার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ইয়েমেনি-মার্কিন বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, এই লড়াই দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তার মতে, এটি স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান না হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

পুরো ইয়েমেন পুনর্দখলের লক্ষ্য

দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও বিভক্ত নেতৃত্বের পর ইয়েমেন সরকার এবার পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

চলতি বছরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসির কাছ থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের হুথি-বহির্ভূত কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয় সরকারপন্থী বাহিনী। ওই সাফল্য তাদের হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান চালাতে উৎসাহিত করেছে।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক মাহজুব জুয়েরি বলেন, সরকার এখন আগের তুলনায় বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মাঠে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংখ্যাও কমেছে। ফলে সানা-কেন্দ্রিক হুথিরাই এখন প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসটিসির পরাজয়ের পর হুথিবিরোধী বিভিন্ন শক্তিকে একটি সমন্বিত বাহিনী হিসেবে উপস্থাপন এবং একক সামরিক কমান্ডের আওতায় আনার চেষ্টা করছে ইয়েমেন সরকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

তবে আল-বাশার মতে, হুথিরা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। সহজে তারা আত্মসমর্পণ করবে না এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা রক্ষায় সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবে।

সরকারি বাহিনী হুথিদের পেছনে ঠেলে দিতে পারলে গোষ্ঠীটি উত্তরাঞ্চলের সাদা, হাজ্জাহ, সানা ও আশপাশের পার্বত্য এলাকায় নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

এতে ইয়েমেন কার্যত দুটি ভৌগোলিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে—একদিকে হুথি নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চল, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা।

আঞ্চলিক সংঘাতই নতুন লড়াইয়ের অনুঘটক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও তার মিত্রদের হামলার মধ্যেই সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুথিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালানোর সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অধ্যাপক জুয়েরির মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিলিশিয়াদের প্রভাব কমানোর বিষয়ে এখন আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের ঘটনাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ইয়েমেন সরকারকে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কার্যত সুযোগ করে দিয়েছে।

সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক খালেদ বাতারফিও মনে করেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, হুথিরা এখন আর শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের একটি পক্ষ নয়। লোহিত সাগরের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর সঙ্গে নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে যুক্ত করার সামর্থ্য তারা দেখিয়েছে।

সৌদি ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক হুথি হামলাগুলোও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এসব হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছে।

বাতারফির মতে, এ ধরনের হামলা ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আবার সরাসরি সৌদি-হুথি নিরাপত্তা সংকটে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তবে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাত কমে গেলেও সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার বিরোধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে না বলে মনে করেন আল-বাশা। কারণ ইয়েমেনের নিজস্ব ভূখণ্ডগত বিরোধ, রাজনৈতিক দাবি এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এখনো অমীমাংসিত।

সৌদি আরব ও ইরানের ওপর কী প্রভাব পড়বে

সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি সংঘাত এড়াতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে হুথিরা, রিয়াদের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন আল-বাশা।

তার মতে, হুথিরা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সমন্বিত হামলা চালালে সৌদি আরবকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। এমনকি ইয়েমেনের মাটিতে হুথিরা চাপের মধ্যে থাকলেও এই সক্ষমতা তাদের হাতে থাকবে।

সৌদি আরব এতদিন ইয়েমেনে ফের অনির্দিষ্টকাল ধরে চলা যুদ্ধ এড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। তবে দেশটির বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে রিয়াদের হিসাব-নিকাশ বদলে যেতে বাধ্য বলে মনে করেন বাতারফি।

তার ভাষায়, কোনো রাষ্ট্রই অনির্দিষ্ট সময় ধরে নিজের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা মেনে নিতে পারে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় হুথিদের জন্য ইরানের সরাসরি সহায়তার সক্ষমতা সীমিত হতে পারে। তবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ, পরিশোধিত জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে বলে মনে করেন আল-বাশা।

বাব আল-মান্দেব নিয়ে কেন এত লড়াই

ইয়েমেন সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

জুয়েরির মতে, ইরান হুথিদের মাধ্যমে এই জলপথকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা।

এই কারণেই হুথিবিরোধী অভিযানে সৌদি আরবের সমর্থনের একটি বড় কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে হুথিরা এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী সৌদি জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে নৌবাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ বাব আল-মান্দেব। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চলাচল সীমিত করার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য এই জলপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তবে বাব আল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে হুথিরাও। লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং আরব সাগরের কিছু অংশে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলার মতো সামরিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলে জানান আল-বাশা।

ভবিষ্যতে তারা জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের চেষ্টাও করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এটি হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের কৌশলের অনুরূপ হতে পারে।

বাতারফির সতর্কতা, একই সময়ে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুই জলপথে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে এর প্রভাব শুধু ইয়েমেন বা সৌদি আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।

বড় ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে রূপ নেওয়ার শঙ্কা

বিশ্লেষকদের প্রায় সবাই একমত, আগামী দিনগুলোতে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বড় পরিসরের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। হুথিদের কাছ থেকে আরও এলাকা দখল করে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার সুযোগ হিসেবে এবারের লড়াইকে দেখছে তারা।

তার মতে, এবারই প্রথম সরকার একাধিক ফ্রন্টে একসঙ্গে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। অর্থাৎ এতদিনের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে তারা সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থানে চলে গেছে। আগের তুলনায় সরকারি বাহিনীর সমন্বয়ও বেড়েছে এবং তাদের হাতে আরও উন্নত অস্ত্র রয়েছে।

তবে এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আল-বাশা বলেন, কেউ কেউ শুরুতে সিরিয়ার মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছিলেন—যেখানে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দ্রুতগতির অভিযানে বাশার আল-আসাদের সরকার ভেঙে পড়েছিল।

কিন্তু ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি বরং সুদানের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিই বেশি। সেখানে দুটি তুলনামূলকভাবে সুস্পষ্ট ভৌগোলিক শক্তি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

 সূত্র: আল-জাজিরা