বিশ্ববাজারে সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি, দেশের বাজারেও বাড়তে পারে দাম

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ন, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩১ অপরাহ্ন, ২১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় কর্মসূচি বাড়ানোর ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে টানা তৃতীয় সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারের এই প্রবণতার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের সেশনেই জুনের শুরুর পর সর্বোচ্চ দামে উঠেছিল স্বর্ণ। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ধাতুটির দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলকে জারদারির অভিনন্দন, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মূল্য কমে যাওয়ায় ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবিতে ৪৬ জনের মৃত্যু

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে। এর আগে বুধবার ট্রেজারি বিভাগ জানায়, আগামী প্রান্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের বন্ড পুনঃক্রয় কার্যক্রম দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রমে কমপক্ষে ৪ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে।

তবে ট্রেজারি বিভাগের ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা।

স্বর্ণের পরবর্তী দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষ করে সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে স্বর্ণের দামে।

সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন শ্রমবাজারের তথ্যেও কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন সামান্য কমেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেড সুদের হার নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ বলে মূল্যায়ন করছেন ব্যবসায়ীরা। আর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩৭ শতাংশ।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় না দেওয়া স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞাও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৬৫ দশমিক ২৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৪ ডলারে।

দেশের বাজারেও বাড়তে পারে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকলে তার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে। ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম নতুন করে সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দিন প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়।

বর্তমানে বাজুস নির্ধারিত দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কার তৈরির ক্ষেত্রে নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়ার সুযোগ নেই।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১০৫ বার সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফা কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।

রুপার দামও চলতি বছরে একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ দাম বাড়ানোর পর ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।

এ বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৬৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩০ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল।