মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ

বিশ্ববাজারে টানা তিন দিন কমল তেলের দাম

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৮ অপরাহ্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার টানা তৃতীয় দিনের মতো ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। তবে দরপতনের পরও দুই ধরনের তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০১ ডলার বা প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ বার হামলা সৌদি আরবের

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ১ দশমিক ০৩ ডলার বা প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমে আসে।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছিল। ফলে শুক্রবারের দরপতনের মধ্য দিয়ে টানা তিন কার্যদিবস তেলের বাজারে নিম্নমুখী ধারা দেখা গেল।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র

সংঘাত বাড়লেও সরবরাহ নিয়ে বড় শঙ্কা নেই

তেলের দামে এই পতন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অঞ্চলটিতে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে দেখা যায়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংঘাতের কারণে কোনো একটি রুটে সমস্যা তৈরি হলেও বিকল্প পরিবহনপথ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হতে পারে।

সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ তৈরি হয়নি। এ কারণেই সংঘাতের খবর বাজারে এলেও তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

নজর মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী পরিস্থিতিতে

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বর্তমান দরকে এখনো উচ্চমূল্যের পর্যায়েই দেখা হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৩ ডলারের বেশি এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।

এখন বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রধান নজর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে গড়ায় এবং এর ফলে তেল উৎপাদন ও পরিবহনব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে কি না, সেদিকে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে সরবরাহপথে প্রভাব ফেললে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন করে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।