চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে এই সময়ের মধ্যেই প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব।
স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে পরদিন থেকেই সাত দিনের সময়সীমা শুরু হবে এবং সপ্তম দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতিসংঘে সর্বসম্মত ঘোষণা
আরাঘচি জানান, নতুন প্রস্তাবে এমন কোনো শর্ত নেই যা আগে দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যে শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামনে রেখেছে, সেগুলো জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকের মধ্যেই ছিল। ওই সমঝোতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।
নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চলার কথা জানানো হয়েছে। তবে এখনো দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
আরও পড়ুন: সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের
ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টিও প্রস্তাবের অংশ বলে জানা গেছে।
এর আগে জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হলে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। জাহাজ চলাচলের পথ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই পথে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আবারও গুরুত্ব পেয়েছে। আরাঘচি বলেছেন, এখন প্রস্তাবটি গ্রহণ করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।





