জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলায় কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৫ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর কাফরুল থানার এলাকায় সংঘটিত তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। কলিমুল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: বিআরটিএ এর অনুমতি ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চলবে না: হাইকোর্ট

গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর কোনো রাজনৈতিক পদ নেই। তিনি একজন অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই পদে থাকার কারণেই তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে দাবি করেন আইনজীবী।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি দাবি করেন, নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

আরও পড়ুন: আপিল বিভাগে বাগবিতণ্ডা: এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা জীবন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনি কখনো জড়িত ছিলেন না এবং এখনও নেই।

তিনি বলেন, উপাচার্য থাকাকালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

কলিমুল্লাহ আরও বলেন, তিনি উপাচার্য থাকাকালে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিলেন। আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদে তিনি কথা বলেছেন বলেও আদালতকে জানান।

তিনি বলেন, আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু নই।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

আগের মামলায় গ্রেপ্তার ও জামিন

এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওইদিন তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির। অন্য কোনো মামলা না থাকায় তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।

তবে গত ৩০ জুলাই ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এতে তার কারামুক্তি আটকে যায়। পরে সম্প্রতি ওই মামলাতেও তিনি জামিন পান।

যে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো

গত ৭ সেপ্টেম্বর তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম। আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় কাফরুল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম রুবেল। ওইদিন রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলা চালানো হয়। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তরিকুল ইসলাম রুবেল মারা যান।

পরে এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় এবার নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিলেন আদালত।