ফেরানো হচ্ছে ‘মবের শিকার’ শিক্ষকদের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারাদেশে মব করে সরিয়ে দেয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আবারও নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা এসব শিক্ষকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুনর্বিবেচনা করছে। শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরআগে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষককে ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভ, অবরোধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের একাংশ কিংবা স্থানীয় জনতার চাপের মুখে প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য হন। এসব ঘটনার পর শিক্ষকদের নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সর্বশেষ মব করে সরিয়ে দেয়া কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়া খোলা বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে স্কুলের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আদেশ দেন। 

এদিকে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সমাজ। তাদের দাবি, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন। তবে যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানান তারা। মব করে সরিয়ে দেয়া কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়া খোলা বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে স্কুলের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে তলব করেন হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে মব করার বিষয়ে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। আদালতে দেয়া তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে জেলে পাঠানোর কথা জানান হাইকোর্ট। তবে পরক্ষণেই তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে তাকে স্কুলের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার একটি বিদ্যালয়ে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে মারধর ও লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুটপাটেরও অভিযোগ ওঠে বরখাস্তকৃত শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়টির নিয়ন্ত্রণ ও প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বন্দ্ব একপর্যায়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এ ঘটনায় বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করেন। বরখাস্ত ও অন্যান্য সংকটকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও পাল্টাপাল্টি আইনি পদক্ষেপ নেয়।

আরও পড়ুন: দুদকের আবেদনে জেবুন্নেসা হকের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে শ্রেণিকক্ষে জীববিজ্ঞানের ক্লাস নিচ্ছিলেন বরিশালের গৌরনদীর শরিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কণিকা মুখার্জী। হুড়মুড় করে কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ একটি মব শ্রেণিকক্ষে ঢোকে। শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়। কণিকাকে লক্ষ্য করে শুরু হয় অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল। নানাভাবে হেনস্তা করা হয় তাঁকে। পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তির সহযোগিতায় সেদিন নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাণ নিয়ে কোনোমতে বের হতে সক্ষম হন তিনি। কয়েক দিন পর বিদ্যালয়ে গিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েন। কণিকা জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে তাঁর প্রাণ হারানোর আশঙ্কা করছিলেন। একইভাবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কণিকার মতোই সারাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে বহু শিক্ষক মবের শিকার হন। তাদের মধ্যে সহস্রাধিক শিক্ষক এখনও নিজ কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের একটি সংগঠন এ দাবি করেছে। দুই বছর পার হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কিংবা জেলা শিক্ষা অফিসের কাছে মব বা জোরজবরদস্তির মুখে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া কিংবা হেনস্তার শিকার শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে দুই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া বা পদত্যাগে বাধ্য করার তথ্য উঠে এসেছে। পুনর্বহালের দাবিতে আট শতাধিক শিক্ষক আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। তবে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষকদের সংগঠন ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর দাবি, সারাদেশে প্রায় দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক হয়রানি, অপমান, পদত্যাগে বাধ্য হওয়া কিংবা কর্মস্থল থেকে বিতাড়নের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক আহত বা অসুস্থ হয়েছেন। জোটের দাবি, শারীরিক ও মানসিক আঘাতের জেরে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সারাদেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৮ হাজার। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ। ধামরাইয়ের সূয়াপুর নান্নার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার। ২০২৩ সালে ধামরাই উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান এবং একই বছর শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হন। আনোয়ারুল বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কয়েকজন শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উস্কে দেন। এরপর ১১ আগস্ট কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। পরদিন প্রায় ১৫ জনের একটি দল মিরপুরে তাঁর বাসায় গিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়। রাজধানীর উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তারের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনকে তাঁর কক্ষে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগের জন্য চাপ দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজন তাঁর হাত এবং পোশাক ধরে টানাটানি করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এক পর্যায়ে তাঁর হাতে কলম ধরিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর দৃশ্যও দেখা যায়। বাড্ডার আব্দুল খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা আক্তারের কক্ষে শিক্ষার্থী ও এক দল বহিরাগত ঢুকে তাঁকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করে এবং পরে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের টাইগারপাস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শিক্ষা বোর্ডের চিঠি নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়ে আবারও হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ। ভিডিওতে কয়েকজনকে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে বের করে দিতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মব সৃষ্টি করে অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী ও সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা খানমকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট এই মব সৃষ্টি করেন ভিকারুননিসার প্রাক্তন কিছু শিক্ষার্থী ও কয়েকজন শিক্ষক। তবে প্রাক্তন দুজন শিক্ষার্থী স্কুল থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা না পেয়ে এই মবে নেতৃত্ব দেয়। কয়েকজন শিক্ষক তাতে সহযোগিতা করেন, যাতে ভবিষ্যতে তাদের পথে আর কেউ বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সেদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মব চলে। তবে ড. ফারহানা খানম বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল। কেকা রায় চৌধুরী একই দাবি করেন। একইভাবে গত ৫ আগস্টের পর ঢাকা জেলাতেই দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক পদত্যাগ, অপসারণ, বরখাস্ত কিংবা কর্মস্থলে বাধার মুখে পড়েন। তাদের মধ্যে রয়েছেন খিলগাঁও গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সরদার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বনানী মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাজী শফিকুল ইসলাম, বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ড. মো. ইদ্রিস আলী, রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা, জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এস এম আব্দুল খালেক, গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এম মুস্তফা জামান মিয়াসহ অনেকে। পরে তারা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেন। আদালতের আদেশের পরও তারা যোগদান করতে পারেননি। কারণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আপিল করেছে। তবে আড়াইহাজারে তিন শিক্ষক মবের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হাসান স্বপদে ফিরেছেন। তবে পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন ও চৈতনকান্দা গোলাম মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এখনও কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি। নওগাঁর রাণীনগরে দুই প্রধান শিক্ষক মবের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের একজন মোজাহার হোসেন আদালত ও প্রশাসনিক উদ্যোগে স্বপদে ফিরেছেন। অন্যজন শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের হরেন্দ্রনাথ সরকার এখনও অপেক্ষায়। তাঁর দাবি,দেড় বছরের বেতন আটকে আছে এবং অবসরের আগে অন্তত ১১ মাস সম্মানের সঙ্গে চাকরি করতে চান। চাকরি হারানোর পর আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টাকার অভাবে মেয়ের বিয়ের আয়োজনও পিছিয়ে দিতে হয়। ধামরাইয়ের এক প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁর নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে অপমানিত হয়ে বেরিয়ে এসে এখন চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানকে থেকে তাদের সরানোর পর অনেক জায়গায় পছন্দের শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কথা হয় মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এর সঙ্গে। তিনি বলেন, জোরপূর্বক পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এখনও যোগ দিতে পারেননি, তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহযোগিতা নিতে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছেন ২০২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী এ আর তাহসিন জাহান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে মবের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্টে আরো লিখেন, ২০২৪ সালে শুধুমাত্র আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি মবের শিকার হয়েছিলাম। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই হুমকির মুখে পড়েছিলাম। নিজের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য একটা সময়ের পর ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারিনি। সেই সময় আমার বিভাগের কিছু শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহস দেখিয়েছিলেন। তাঁদের কারণেই শেষ পর্যন্ত নিরাপদ জায়গা থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে আমার স্নাতক শেষ করতে পেরেছিলাম। তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধা সব সময় থাকবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান করা শুধু ব্যক্তিকে আঘাত করে না; পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মর্যাদাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক অযোগ্য হলে বা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত কিংবা অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান করা গুরুতর অন্যায়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অপমানের পর বেতন, ভাতা ও মর্যাদা ফিরে পাওয়ার দাবিতে অনেক শিক্ষক রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। এতে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর মামলায় এমপি গাজী নজরুল ফের চার দিনের রিমান্ডে