ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার কয়েক মাস পরও ঝরছে চুল? কেন হয়, কী করবেন

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৫ পূর্বাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পরও অনেকের শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো অতিরিক্ত চুল পড়া। জ্বর কমে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর বালিশে, গোসলের সময় কিংবা চিরুনিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল দেখতে পেলে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। তবে সব ক্ষেত্রে এটি স্থায়ী চুল পড়ার লক্ষণ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর মতো গুরুতর সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শারীরিক চাপ, অপুষ্টি কিংবা দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার কারণে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামের একটি সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রে পরিবর্তন ঘটে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল ঝরে পড়ে।

আরও পড়ুন: আজ পাস্তা দিবস

ডেঙ্গুর পর চুল পড়ে কেন?

মানুষের চুলের গোড়া স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি, বিশ্রাম ও ঝরে পড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়। গুরুতর অসুস্থতা, উচ্চ জ্বর, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা, ক্ষুধামন্দা কিংবা পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব এই চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং পরে ঝরে পড়ে।

আরও পড়ুন: পিরিয়ডের আগে মুখে ব্রণ ওঠে কেন? যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন

এ ধরনের চুল পড়ার একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি অসুস্থতার সঙ্গে সঙ্গে শুরু না-ও হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর বা সংক্রমণের প্রায় দুই থেকে চার মাস পর চুল পড়া স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে অনেকে চুল পড়ার সঙ্গে আগের ডেঙ্গু সংক্রমণের সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়া কি স্থায়ী?

ডেঙ্গুর পর চুল পড়া শুরু হলেই স্থায়ীভাবে টাক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করার প্রয়োজন নেই। টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের ক্ষেত্রে সাধারণত মাথার বিভিন্ন অংশ থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চুল পড়ে এবং চুল পাতলা হয়ে আসে। নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় গোলাকার টাকের দাগ তৈরি হওয়া এ সমস্যার সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে চুলের বৃদ্ধিচক্রও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। নতুন চুল গজাতে পারে, তবে আগের মতো ঘনত্ব ফিরে পেতে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

তবে সব ধরনের চুল পড়ার জন্য ডেঙ্গুকে দায়ী করা ঠিক নয়। আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, অপর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, দ্রুত ওজন কমানো, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা বংশগত কারণে চুল পড়তে পারে। চুল পড়া অতিরিক্ত হলে, দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অথবা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডেঙ্গুর পর চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে কী খাবেন?

অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময় সুষম খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা প্রয়োজন।

প্রোটিনের ভালো উৎস হতে পারে—

ডাল ও ডালজাতীয় খাবার: মসুর ডাল, ছোলা, শিম ও সয়াবিন।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই ও পনির।

অন্যান্য উৎস: ডিম, মাছ ও চর্বিহীন মাংস।

এ ছাড়া শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। মসুর ডাল, শিম, সবুজ শাকসবজি ও তিল থেকে আয়রন পাওয়া যায়। এসব উদ্ভিজ্জ খাবারের সঙ্গে পেয়ারা, আমলকী, লেবু বা টমেটোর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রন শোষণে সহায়তা হতে পারে।

তবে কোনো একটি খাবার খেলেই ডেঙ্গুর পর চুল পড়া দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না, তা বিবেচনা করে খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়রন, বায়োটিন, জিঙ্ক বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাবেন না। ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টের উপকার নাও হতে পারে; বরং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কিছু সাপ্লিমেন্ট নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে পারে।

চুল পড়া কমাতে কীভাবে যত্ন নেবেন?

ডেঙ্গুর পর চুল পড়তে থাকলেও স্বাভাবিকভাবে শ্যাম্পু করা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। শ্যাম্পু সাধারণত টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের কারণ নয়; বরং আগে থেকেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে থাকা চুল ধোয়ার সময় বেরিয়ে আসতে পারে। এ সময় চুলের যত্নে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করতে পারেন—

ভেজা চুল আলতোভাবে আঁচড়ান এবং জোরে টানাটানি এড়িয়ে চলুন।

আঁটসাঁট করে চুল বাঁধা কমিয়ে দিন।

অতিরিক্ত তাপ, হেয়ার স্ট্রেইটনার ও ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এড়িয়ে চলুন।

তোয়ালে দিয়ে চুল জোরে ঘষবেন না।

দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ক্র্যাশ ডায়েট করবেন না।

পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও বিশ্রামের মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ হওয়ার সময় দিন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

চুল পড়া দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে, ক্রমাগত বাড়লে, মাথায় নির্দিষ্ট জায়গায় টাকের দাগ দেখা দিলে অথবা মাথার ত্বকে চুলকানি, ব্যথা কিংবা প্রদাহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা বা চুল পড়ার অন্য কারণগুলো পরীক্ষা করতে পারেন।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক হলেও সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না। তাই শুধু ডেঙ্গুর ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে কারণ নির্ধারণ না করে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই ভালো।