আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস ২০২৬
দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়াতে মুন্সিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি
দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মুন্সিগঞ্জের সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ, র্যালি, আলোচনা সভা ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এসব কর্মসূচি পালন করে ‘প্রেরণা’। এতে সহায়তা দেয় ‘প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’।
দিনের কর্মসূচি শুরু হয় ধানখালীর সুন্দরবন গার্লস হাই স্কুলে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় বৃক্ষরোপণ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি পরিবেশ সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ।
আরও পড়ুন: গড় আয়ুতে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
পরে মুন্সিগঞ্জের বড়ভেটখালি জেলেপাড়া এলাকায় র্যালি, আলোচনা সভা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে কিশোরী, তরুণ-তরুণী, নারী, পরিবারের প্রধান এবং ‘দুর্বার কন্যারা’ অংশ নেন।
আলোচনায় দুর্যোগের পূর্বাভাস বোঝা, পরিবারের জন্য জরুরি পরিকল্পনা তৈরি, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সুরক্ষিত রাখার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া দুর্যোগের আগে, চলাকালে ও পরে নারী ও কিশোরীদের যেসব বিশেষ ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়, সেসব বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: আইকাও’র সহযোগিতায় সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
কর্মসূচিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সুন্দরবন-সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। আগাম সতর্কতা, পারিবারিক পরিকল্পনা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
আয়োজকেরা জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে কিশোরী ও নারীদের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, কিশোরীরা সচেতন ও সংগঠিত হলে এবং তাদের মতামত গুরুত্ব পেলে পুরো সমাজের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রেরণা।





